• সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
নোটিশ :
* ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে বীরযোদ্ধা অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা * বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী  আবশ্যক। আগ্রহীদের নিম্নে ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য জানানো যাচ্ছে।

হোসেনপুরে ৪শ বিয়ের সফল ঘটক জামাল উদ্দিন

বীরযোদ্ধা / ৬৩
প্রকাশিত : ১২:৪৯ পিএম, (মঙ্গলবার) ৬ জুলাই ২০২১
smart

আশরাফ আহমেদ :

‘পাত্র-পাত্রী যেমনটি চান, ভাবনা কিছুই নাই/ জুটিয়ে দেবেন আনন্দরাম, যেমনটি ঠিক চাই/ আনন্দরাম ভালই জানেন আপন কর্মধারা/ খুঁতের সাথে খুঁত মিলিয়ে দুইটি হৃদয় জোড়া/ এই ভাবেতে শতশত বিয়ে দিয়ে তিনি/ ঘটক কুলে পরিচিত ঘটক চূড়ামণি।’-‘ছড়ার নায়ক ঘটক আনন্দরাম এর ঘটক, ঘটকালি ও বিয়ে নিয়ে ঘটকালির  প্রচলন আদি যুগ থেকেই  ছিল। তবে  দিনমজুর থেকে ঘটকালি করে এখন লাখপতি হয়েছেন মোঃ জামাল উদ্দিন। বিশ বছরে দিয়েছেন ৪০০ বিয়ে।

তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হুগলাকান্দী গ্রামে।  তার বয়স  ৪০। ছোট থেকেই অন্যের বাড়িতে দিনমজুরি করে বাবার সংসারের হাল ধরেন। দরিদ্রতার কষাঘাতে নিষ্পেষিত সে। প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও লেখা পড়া হয়ে উঠেনি। কোনমতেই সংসারের অভাব অনটন দূর হচ্ছে না। জামালের বিয়ের পূর্বেই পরিচয় হয় পাকুন্দিয়ার ঘটক বাচ্চু মিয়ার সাথে। খুব সখ্যতা গড়ে ওঠে দুজনের মধ্যে। বাচ্চু মিয়ার সাথে শুরু করে ঘটকালি পেশা। সেই ২০ বছর বয়স থেকেই  শুরু হয় তার এ ঘটকালির পেশায় পথ চলা। আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এ পর্যন্ত ৪০০ টি বিয়ে সম্পন্ন করেছেন ঘটক জামাল উদ্দিন। দৈনিক তার দুই থেকে তিন হাজার টাকা উপার্জন। খুবই প্রত্যুষে বাড়ি থেকে বের হয়ে এক পাত্রের বাড়ি থেকে অন্য পাত্রীর বাড়ি কিংবা এক শহর থেকে অন্য শহরে পাত্র- পাত্রীর সন্ধানে ছুটে চলেন। সংসারে তার ২ মেয়ে ১ ছেলে। মেয়ে দুজনকে বিবাহ দিয়েছেন ভালো জায়গায়। একমাত্র ছেলে অনার্স তৃতীয় বর্ষের লেখাপড়া করছে। এই ঘটকালির পেশায় নিয়োজিত থেকে এ পর্যন্ত ১৫ কাঠা জমি ও নিজে থাকার সুন্দর একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন জামাল। এখন সংসারের নেই কোনো অভাব অনটন। আরাম-আয়েসের জন্য ঘরে ফ্রিজ, কালার টিভি সহ বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী রয়েছে। কর্ম ব্যস্ততার দরুন সময় বাচানোর জন্য এখন কিনেছেন একটি  মোটরসাইকেল । তার ডায়রিতে অনেক পাত্র পাত্রীর বায়োডাটা। বিভিন্ন দূর-দূরান্ত থেকে অভিভাবকরা তার সাথে যোগাযোগ করেন। ফলে ব্যস্ততায় কাটে তার  সময় । তার কাছে নাম এন্ট্রি করলে পূর্বেই দিতে হয় কিছু টাকা।

এ পেশা সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলে জামাল বললেন, কাজটি মজার। সম্পর্ক গড়ে দেওয়া। কথাবার্তা চালানোর মধ্যে কোনোটি যখন লেগে যায়, তখন আর আনন্দের সীমা থাকে না। বিয়ে পর্যন্তই কাজ, তা কিন্তু নয়। অনেকে পরেও যোগাযোগ রাখেন।

আজ-কালকার যুগে যখন মুঠোফোনে ডেটিং অ্যাপ পর্যন্ত আছে, ছেলেমেয়েরা হরদম নিজেদের পছন্দে বিয়ে করছেন, সেখানে ঘটকালিটা একটু সেকেলে হয়ে গেল না? জবাবে জামাল বললেন, বিয়ে হলো আল্লাহর কুদরত। এমন অনেক ছেলেমেয়ে আছেন, যাঁরা শুধু লেখাপড়াটাই করেছেন, সম্পর্ক গড়ার সুযোগ পাননি, অনেকে এখনো পরিবারের অমতে বিয়ে করতে চান না। এখন হাতে তাঁর দুইশত ফাইল রয়েছে। বিয়ে হলে পাত্র-পাত্রী উভয় পক্ষ থেকে ২০হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। তবে অতি দরিদ্রদের কথা আলাদা। এত বছর ধরে ঘটকালিতে।

কীভাবে টিকে আছেন? ঘটক  জামাল বললেন, তিনি তিনটি জিনিস মানেন, ১৮ বছরের নিচে বিয়ের সম্বন্ধ করেন না; যে বিয়েতে পাত্রপক্ষ যৌতুক চায়, সে বিয়ে এড়িয়ে যান। আর কখনো কেউ মিথ্যা বললে সম্পর্ক নিয়ে এগোন না। মিথ্যার ওপর সম্পর্ক টেকে না—এই তাঁর বিশ্বাস।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর