• সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
নোটিশ :
* ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে বীরযোদ্ধা অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা * বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী  আবশ্যক। আগ্রহীদের নিম্নে ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য জানানো যাচ্ছে।

হোসেনপুরে হারিয়ে যাচ্ছে সুমিষ্ট আতাফল

বীরযোদ্ধা / ৩৮
প্রকাশিত : ১:৩৭ পিএম, (সোমবার) ১২ এপ্রিল ২০২১

আশরাফ আহমেদ :

আতা গাছে তোতা পাখি, ডালিম গাছে মৌ, এত ডাকি তবু কথা, কওনা কেন বউ? ছড়ার ছন্দের সুমিষ্ট আতাফল গাছ কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বাড়ির আঙ্গিনাসহ ঝোপ-জঙ্গলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে প্রচুর পরিমানে দেখা যেতো। এক সময় এ ফলটি প্রচুর উৎপাদন হলেও এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগে উপজেলার ইউনিয়ন ও গ্রামগুলোতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এবং ছোট পরিসরে কেউ আতাফলের চাষ করতেন। তাছাড়া হোসেনপুরের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে আতাফলগাছ ও এর বাগান দেখা যেতো। ওইসব গাছের উৎপাদিত আতাফল স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রয়ের জন্য সরবরাহ করা হতো। আতা ফলের চাষ করে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন অনেক চাষী।

স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, আতা সুপরিচিত ফল। এতে রয়েছে নানা গুণ। শুধু স্বাদের কারণেই নয়, স্বাস্থ্যের জন্য এটি দারুণ উপকারী ফল। ভিটামিন ‘সি’ এর মতো নানা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে এতে। শরীরে রোগ সৃষ্টিকারী মুক্ত কণা থেকে মুক্তি দিতে পরে আতা। এ ছাড়া কোষ্ঠ পরিষ্কার, অরুচি দূর করা, ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ানো ও দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখার প্রয়োজনে আতা খাওয়া যায়। আতা ফল হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। আতাফলে থাকা ফসফরাস খাবারের হজম শক্তিকে বাড়িয়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

তাছাড়া এর খাদ্যআঁশ হজমশক্তি বৃদ্ধি করে ও পেটের সমস্যা দূর করে। তাই যাদের হজমের সমস্যা আছে তারা আতা ফল খেলে অনেক উপকার পাবেন। দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় আতাফলে প্রচুর ভিটামিন এ আছে। অনেকের কাছে আতা খুব পছন্দের ফল। আতা খেতে ভারি মিষ্টি এ ফল খুব সজলভ্য। পাকা আতার শাঁস মিষ্টি হয়ে থাকে। খাওয়ার সময় জিভে চিনির মতো মিহি দানা দানা লাগে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ফলটি সহজে পেট ভরাতেও দারুণ সাহায্য করে। আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে গুণে ভরা আতাফল।

হোসেনপুর পশ্চিমপট্রির আতাফল চাষী কাজল জানায়, এই ফল গাছটি আমরা বাড়িতে ও বাগানে চাষ করতাম, কিন্তু এখন আতাগাছে আর ফল হয়না সেই কারনে গাছও লাগাই না। শত শত আতাগাছ ছাড়া এসব গ্রামের কথা কল্পনাই করা যেত না। কিন্তু সেই আতাগাছ আজ আর নেই বললেই চলে। কৃষি জমিতে ইটভাটা, বিল্ডিং স্থাপন হওয়ায় যেন হারিয়ে গেছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য সু-স্বাদু ফল গাছ আতা। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে গেলে এখনও কিছু কিছু বসতবাড়িতে আতাফল গাছ চোখে পড়ে। কোনো যত্ন ছাড়াই পরিত্যক্ত জমিতে আতা চাষ করে বছরে হাজার হাজার টাকা উপার্জন করা যেত। কিন্তু, বৈরী প্রকৃতি ও আবহাওয়ার কারনে এখন আর এসব এলাকায় আতা ফলের চাষ করা যাচ্ছে না বলেও জানায় আতা ফল চাষীরা। আতা ফল পাইকারী ব্যবসায়ীরা আতা ফলের ব্যবসা বাদ দিয়ে অন্যান্য ফলের ব্যবসায় ঝুকে পড়ছে।

সম্প্রতি সকলের কাছে ফলটি জনপ্রিয় হয়ে উঠায় বাড়ছে বিপুল চাহিদা। কিন্তু সে পরিমানে আতা ফলের চাষ হচ্ছে না। বাজারে আতা ফল পাওয়া যাচ্ছে না। আর যদিও পাওয়া যায় তার দাম সাধারন ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার উর্দ্ধে। এজন্য হারিয়ে যাওয়া এই ফল চাষের বিস্তৃতি ঘটাতে সরকারের কৃষি বিভাগের পদক্ষেপ কামনা করেছে স্থানীয়রা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, আতা চাষকে পুনরায় আধুনিকায়ন ও গতিশীল করার জন্য কৃষকদেরকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা প্রয়োজন। শুধু কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর নয় গোটা দেশময় একসময়ের হারিয়ে যাওয়া এই জনপ্রিয় ফল গাছ আতা চাষের বিস্তৃতি ঘটাতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এমনটিই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর