• শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
নোটিশ :
* ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে বীরযোদ্ধা অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা * বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী  আবশ্যক। আগ্রহীদের নিম্নে ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য জানানো যাচ্ছে।

হোসেনপুরে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ

বীরযোদ্ধা / ৫২
প্রকাশিত : ২:৩৫ পিএম, (বৃহস্পতিবার) ১৫ এপ্রিল ২০২১

আশরাফ আহমেদ :

কিশোরগঞ্জের  হোসেনপুরে কৃষির আধুনিকায়নে ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করে কৃষকেরা মালচিং (শক্ত পলিথিন দিয়ে মাটি ডেকে দেওয়া) পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন শুরু করেছে।  এ পদ্ধতি অনুসরন করে সবজি চাষ ক্রমেই কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

মালচিং মূলত চীন ও জাপানের বিষমুক্ত সবজি চাষের একটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। কৃষি বিভাগের উদ্যোগে বর্তমানে বাংলাদেশেও পাইলট প্রোগ্রাম হিসেবে বিভিন্ন স্থানে এই পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ শুরু হয়েছে। এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত বিষমুক্ত সবজির ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় উৎসাহিত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষি অফিস জানায়, বর্তমানে উৎপাদিত সকল সবজিতেই ব্যবহার করা হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক। যা মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের জন্য কৃষি বিভাগ প্রতিনিয়তই উদ্ভাবন করছে পরিবেশ বান্ধব নানা প্রযুক্তি ও পদ্ধতি। সেই পরিবেশ বান্ধব কৃষি প্রযুক্তির মধ্যে একটি মালচিং পদ্ধতি।

এ পদ্ধতিতে প্রথমে পরিমাণ মতো খাবার দিয়ে জমি প্রস্তুত শেষে সারি তৈরি করা হয়। সেই মাটির সারিগুলি পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এরপর সারিগুলো দিয়ে নির্দিষ্ট দূরত্বে পলিথিন ফুটো করে সবজির চারা রোপণ করা হয়। চারা রোপণের পর থেকে শুধুমাত্র দেখভাল করা ছাড়া আর তেমন কোনও পরিচর্যা করতে হয় না। মাটির সারিগুলো পলিথিন দিয়ে ঢেকে থাকার কারণে বাইরে থেকে কোনও ছত্রাক কিংবা রোগবালাই সেই সবজির চারায় আক্রমণ করতে পারে না বলে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় খুবই কম। এ পদ্ধতিতে চাষ করা বেগুন, মরিচ গাছে ঢলে পড়া রোগ হয় না। ক্ষেতের পরিচর্যার জন্য তেমন শ্রমিকেরও প্রয়োজন হয় না বলে উৎপাদন খরচ হয় খুবই কম হয়। এছাড়া এই পদ্ধতিতে ফলন হয় দ্বিগুণ। এই পদ্ধতি অনেক সহজলভ্য ও পরিবেশ বান্ধব হওয়ায় অনেক কৃষকরা এ পদ্ধতিতে সবজি চাষে ঝুকছেন।

উপজেলার বরুয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস জানান, প্রথমে তিনি ইন্টারনেটে এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ দেখেন এবং নিজেই পাইলট প্রোগ্রাম হিসেবে ৫কাঠা জমিতে বেগুন ও মরিচ চাষ করেন। এ পদ্ধতিতে খরচ কম বলে লাভের পরিমাণ অনেক বেশি। তবে স্থানীয় কৃষি অফিসের কোনো সহযোগিতা পাননি বলে তিনি জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরুল কায়েস বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে লাভ হয় অনেক বেশি। ইতোমধ্যেই কুদ্দুসের দেখাদেখি স্থানীয় অনেক কৃষকরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এ পদ্ধতিতে সবজি চাষে আগ্রহী কৃষকদের আমরা সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবো। বিষমুক্ত সবজি চাষকে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে কৃষি বিভাগ সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর