• সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
নোটিশ :
* ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে বীরযোদ্ধা অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা * বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী  আবশ্যক। আগ্রহীদের নিম্নে ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য জানানো যাচ্ছে।

হোসেনপুরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি

বীরযোদ্ধা / ৭০
প্রকাশিত : ১:৩৬ পিএম, (বৃহস্পতিবার) ৮ এপ্রিল ২০২১

আশরাফ আহমেদ, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) :

এক সময় হোসেনপুরের বহু দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষেরা ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে কলকারখানা, দোকানপাট, গার্মেন্টসহ নানান পেশায় কাজ করতো। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে ওইসব শ্রমজীবি মানুষ এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা দারুন কষ্টে দিনপার করছেন। বাড়ি ভাড়া ও সংসারের ভরণ-পোষণ না করতে পারায় শহর ছাড়ছেন অনেকে। গ্রামে এদের কারও ভিটেমাটি ছাড়া কোনো ফসলি জমি নেই। আবার কিছু সংখ্যক লোকের ভিটেমাটি ও কিছু  ফসলি জমি রয়েছে। তাছাড়া গ্রামের বিত্তশালী ভূস্বামীদের কাছ থেকে তারা  জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদে আত্মনিয়োগ করছেন। আবার কিছু সংখ্যক লোকের নিজস্ব জমিতে শাকসবজি কিংবা অর্থকরী ফসল চাষ করছেন। এর ফলে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে হোসেনপুরের গ্রামীণ অর্থনীতি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী সকলকে বাড়ির আঙ্গিনা, উঠোনসহ অনাবাদি জমিতে শাকসবজি ও বিভিন্ন ফসল ফলানোর জন্য জোর তাগিদ দিয়েছেন। কোনো অনাবাদী জমি রাখা যাবে না।

সরেজমিনে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, উপজেলায় বিভিন্ন শহর থেকে কর্মহারা হয়ে বহু নিম্নবিত্ত লোকেরা গ্রামে পরিবার-পরিজন নিয়ে চলে এসেছে। তেমনি একজন উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চর কাটিহারী গ্রামের রফিক মিয়া। সপরিবারে নারায়ণগঞ্জে দিনমজুরের কাজ করতে। তিন মাসের বাড়ি ভাড়া আটকে যায়। ফলে ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করে বাসা ভাড়া পরিশোধ করে গ্রামে চলে আসেন। বাড়িতে ভিটেছাড়া সহায়-সম্পত্তি কিছুই নেই। তাই গ্রামে এসেই ৫ কাঠা জমি বর্গা নিয়ে শাকসবজি চাষ শুরু করেন। শাক সবজি বিক্রি করে ভালই উপার্জন হচ্ছে। এতে পরিবার-পরিজনের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো ভাত তুলে দিতে পারছেন।

রফিক মিয়া বলেন, কাজ না থাকায় ৩ মাসের বাসা ভাড়া আটকে যাওয়ায় শহর ছেড়ে বাড়িতে চলে এসেছি। এখন ছেলেমেয়ে নিয়ে কৃষিকাজ করে ভালোই কাটছে দিন। রফিকের মতো এ গ্রামের  কলিমুদ্দিন, সুরুজ মিয়াসহ অনেকেই শহর ছেড়ে ফিরে এসেছে গ্রামে। তারাও ভূস্বামীদের কাছ থেকে জমি বর্গা নিয়ে নানান ফসলাদি চাষ করছেন।

গ্রামের বিত্তশালী ভূস্বামী লিয়াকত আলী জানান, পূর্বে বহু জমি পতিত থাকতো। বর্গা নেওয়ার মত কেউ ছিলনা। কিন্তু এখন বহু লোক জমি বর্গা নিতে আসে। এখন কোনো জমি অনাবাদি নেই।

গ্রামে বেড়ে গেছে কৃষিজমির কদর। অনাবাদি জমিতেও এখন নানান ফসল চাষাবাদ করা হচ্ছে। দেশে উন্নত জাতের বীজ, কীটনাশক ও সার প্রয়োগে ফসলের উৎপাদন দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। তাই দরিদ্র পরিবারগুলোতে ফিরে এসেছে স্বচ্ছলতা। গবাদি পশু মোটাতাজাকরণ, মৎস্য চাষ, হাঁস-মুরগী পালনসহ বিভিন্ন উৎপাদন কাজে সম্পৃক্ত হচ্ছে নিম্নবিত্ত শ্রেণীর শ্রমজীবীরা। ফলে পারিবারিকভাবেই আর্থিক সংকট কাটিয়ে হচ্ছে স্বাবলম্বী। জীবন যাত্রার ক্ষেত্রে ব্যাপক মানোন্নয়ন ঘটছে। গ্রামের ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত। নগরের হাতছানি বিলুপ্তির পথে। আধুনিক গ্রামীণ পরিবেশে সকল সুযোগ সুবিধার সমন্বয় ঘটাতে চলছে। তাই গ্রামেই হবে নগরসভ্যতার সোপান। গ্রামে কৃষি বিপ্লব ঘটে পুনরায় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। দূরীভূত হবে সকল আর্থিক দৈন্যতা। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষি হবে প্রধান চালিকাশক্তি।

উপজেলার কৃষি উন্নয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরুল কায়েস জানান, অনাবাদি ও আবাদি সকল জমি কৃষি চাষের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় উপজেলায় কৃষি ফসলের উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যাবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর