• মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০১:২৪ অপরাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
নোটিশ :
* ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে বীরযোদ্ধা অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা * বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী  আবশ্যক। আগ্রহীদের নিম্নে ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য জানানো যাচ্ছে।

সখের ছাদ বাগান এখন বাণিজ্যিক নার্সারী

বীরযোদ্ধা / ৯৫
প্রকাশিত : ৩:৪৮ পিএম, (শুক্রবার) ২ জুলাই ২০২১

খালিদ হাসান :

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ঘরবন্দি দিন চলতে থাকে। ঘরবন্দি হয়ে হাঁপিয়ে উঠা সময়ে কিছু একটা করার পরিকল্পনা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। এরইমধ্যে একদিন দুইটি দার্জিলিং জাতের কমলা লেবুর চারা কিনে আমার ছোট্ট ছাদে রাখা টবে রোপন করি। এমনিতেই ছোটবেলা থেকে গাছের প্রতি আমার একটা দুর্বলতা ছিল। সেই দুর্বলতা থেকে সখ চেপে বসে। শুরু করি আমার বাড়ির ছাদে দেশি বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির ফল ও ফুলের চারা রোপন। এরই মধ্যে মরু অঞ্চলের সুস্বাদু ত্বীন ফলসহ বেশ কয়েক প্রকারের গাছে ফল ধরা শুরু করে, আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। এক সময় সখের বাগান ছাদ পেরিয়ে বাড়ির আশে পাশের জমিতে বাণিজ্যিক নার্সারিতে রূপ নেয়। যেখান থেকে প্রতিমাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার আয় হচ্ছে। সাথে আরো দুইজন বেকারের কর্মসংস্থান হয়েছে আমার নার্সারিতে। করোনাকালে অবসর সময় কাজে লাগিয়ে কীভাবে বাড়তি আয় সম্ভব তা দেখিয়ে দিয়েছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভাধীন কাশিপুর গ্রামের শিক্ষক হাফিজুর রহমান মাসুদ। তিনি একই উপজেলার মনোহরপুর পুখুরিয়া দাখিল মাদরাসার আইসিটি শিক্ষক। প্রতিদিন তার ছাদ বাগান দেখতে দূরদূরান্ত থেকে সৌখিন মানুষেরা আসছেন। ফেরার সময় অনেকে পছন্দের ফুল ফলের চারা নিয়ে যাচ্ছেন। এরমধ্যে শুধুমাত্র ত্বীন ফলের চারা বিক্রি করেছেন ৫ লক্ষাধিক টাকার।

শিক্ষক হাফিজুর রহমান বীরযোদ্ধা ডট কমকে জানান, গত বছর মার্চে দেশে করোনা ধরা পড়া পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। সময় কাটাতে ছাদে প্রথমে দুইটি লেবুর চারা লাগান। এ সময় ঘরবন্দি হয়ে বসে না থেকে কিছু একটা করার পরিকল্পনা করি। শুরু করি আমার ছোট্ট ছাদে দুঃপ্রাপ্য ফুল ও ফলের ছাদ বাগান। কিছুদিন যেতে না যেতেই সেই সখের ছাদ বাগান এখন আমার আয়ের আরেকটি উৎসে পরিণত হয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে সংগ্রহ করেন আরও দেশি বিদেশি ফলের চারা। অনলাইনে যাচাই করে দেশের বিভিন্ন নার্সারী থেকে নানান জাতের ফল ও ফুলের চারার সংগ্রশালা তৈরী করেন। তার নার্সারীতে ১৭০ প্রজাতির বিভিন্ন ফল ও ফুলের চারা আছে। এগুলোর মধ্যে পার্সিমন, লং মালবেরি ও ইনসুলিন প্লান্ট। এছাড়া রয়েছে কিউজাই, কিং অপ চাকাপাতা, ব্রুনাই কিংসহ বিভিন্ন জাতের আম। হাজারি কাঁঠাল, থাই বারমাসি কাঁঠাল, ভিয়েতনামের লাল কাঁঠাল, ভিয়েতনামের গোলাপি কাঠাল। কমলার মধ্যে রয়েছে দার্জেলিং কমলা, নাগপুরি কমলা, ছাতকি কমলা, মেন্ডারিন কমলা ও কেনু কমলা। এছাড়া চায়না-৩ কাগুজে লেবু, এলাচি কাগুজে লেবু, সিডলেচ কাগুজে লেবু, থাই কাগুজে লেবু। ভিয়েতনামি ও কেরালা নারিকেল। বিদেশি ফল ত্বীন, যয়তুন, রামবুটান, ডুরিয়ান, অ্যাভোকাডোসহ ঔষধি গাছ করসল, টুরুপ চান্ডাল ও সাদা লজ্জাপতি।

মাসুদ বীরযোদ্ধা ডট কমকে জানান, তিনি পরিচিত জন ও এলাকার চাষীদের উদ্বুদ্ধ করছেন বিদেশি ফল চাষে। তার প্রেরণায় অনেকে বানিজ্যিকভাবে ত্বীন ফলের চাষ শুরু করেছেন। তার ছাদ বাগান ও বাড়ির আঙ্গিনায় নার্সারী দেখে এখন অনেকে তাদের নিজ বাড়ির পতিত জমিতে বিভিন্ন ফলের চারা রোপন করছেন বলেও তিনি জানান।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস অফিসার শিকদার মোঃ মোহায়মেন আক্তার শিক্ষক মাসুদের ছাদ বাগান প্রসঙ্গে বীরযোদ্ধা ডট কমকে বলেন, আমরা একটু চেষ্টা করলেই আমাদের ছাদে সবুজ বাগান গড়ে তুলতে পারি। ছাদ বাগান আমাদের একদিকে অবসর সময় কাটাতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে পরিবারের সবজি ও ফলের চাহিদা পুরনে সহযোগিতা করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর