• সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
নোটিশ :
* ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে বীরযোদ্ধা অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা * বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী  আবশ্যক। আগ্রহীদের নিম্নে ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য জানানো যাচ্ছে।

লোকসানের মুখে আলু চাষি, লকডাউনে নেই ক্রেতা, ধরছে পচন

বীরযোদ্ধা / ১০৩
প্রকাশিত : ১:৫৭ পিএম, (সোমবার) ৩ মে ২০২১

আশরাফ আহমেদ :

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে এ বছর আলুর বাম্পার ফলন হলেও হিমাগার না থাকায় আলুতে পঁচন ধরছে। অন্যদিকে বাজারে ক্রেতার অভাবে আলুর ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশায় কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। এতে কৃষকেরা লোকসানের পাশাপাশি আগামীতে আলু চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৪৫০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৮ হাজার ৬৫০মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৪৬৫ মেট্রিক টন বেশি। হেসেনপুরে কোনো হিমাগার  না থাকায় পাশের উপজেলার পাকুন্দিয়ার হিমাগারে সিন্ডকেটের কারণে হোসেনপুরের চাষিদের আলু সংরক্ষণ করা অনেকটা অসম্ভব বিধায় চাষিদের উৎপাদিত আলু নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাছাড়া বাজারে ক্রেতার অভাবে আলুর দাম কম থাকায় কৃষকদের উৎপাদিত আলু কম মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকেরা বীরযোদ্ধাকে জানান, হোসেনপুর উপজেলাটি ভৌগলিকভাবে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও নরসুন্ধা নদ বেষ্টিত হওয়ার আলু চাষের জন্য খুবই উপযোগী । পঁচনশীল এ পুষ্টিকর পণ্যটি মাড়াই মৌসুমের পর সারা বছরই চাহিদা থাকার কারণে ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণের প্রয়োজন হয়।যে জন্য প্রয়োজন হিমাগার, স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলে স্থানীয় ভাবে কোনো হিমাগার না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত আলু খাবারের বা বীজের জন্য ভবিষ্যতে সংরক্ষণের জন্য হন্নে হয়ে দৌড়াতে হয় এদিক ওদিক। এক সময় দেশি আলু চাষ করে তা দীর্ঘদিন পরও বীজ ও খাবারের জন্য রাখতে পারলেও এখন সেগুলো বিলুপ্ত প্রায়। উন্নত জাত হিসেবে ডায়মন্ড, কারেজ ও এসটারিস আলুর ফলনবেশি হওয়ায় তা অধিক লাভজনক হিসেবে ব্যাপকহারে আবাদ হচ্ছে। যেগুলো এক থেকে দেড় মাসের বেশি সময় কোল্ডস্টোরের বাহিরে সংরক্ষণ করা যায় না। তাই আলুতে পচন ধরছে।

সরেজমিনে উপজেলার হাজিপুর বাজারের আলু বিক্রেতা সিদলা ইউনিয়নের পুড়াবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আ:কাদির, আ: আজিজ, আ:রাশিদ, সাহেবের চর নয়াপাড়া আশরাফুলসহ অনেকেই বীরযোদ্ধাকে জানান, এ বছর তারা প্রত্যেকেই গড়ে ৪০ কাঠা জমিতে আলু চাষ কমপক্ষে ৩ লাখ টাকা করে লোকসান গুণেছেন।

ইকবাল হোসেন জানায়, ৩ ঘন্টা ধরে আলু নিয়ে বসে আছি কেহ দাম করছে না। গত রবিবার হোসেনপুর বাজারে কথা হয়, জামাইল গ্রামের কৃষক গিয়াস উদ্দিন, বরুয়া গ্রামের মমতাজ উদ্দিন, চর জামাইল গ্রামের ইব্রাহিম খলিল সোহাগসহ বাজারে আলু বিক্রি করতে আসা এমন আরো কয়েকজন কৃষকের সাথে।

তারা জানান, তাদের প্রত্যেকের এখনও কয়েকশ মণ আলু অবিক্রিত থাকায় আলুতে পঁচন ধরছে। সাহেবের চর গ্রামের কৃষক বাদল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, আমার কয়েকশ মণ আলু পঁচনের কারণে ফেলে দিতে হয়েছে। ফলে মোটা অংকের লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।

কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরুল কায়েস বীরযোদ্ধাকে জানান, এ বছর আলুর বাম্পার ফলন হলেও  স্থানীয় পর্যায়ে হিমাগার থাকলে কৃষকেরা যথাযথ সুফল পাচ্ছেনা। যদি এ উপজেলায় কম করে হলেও ৫০০মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার একটি হিমাগার থাকতো তবে কৃষকেরা আরও অধিক লাভবান হতেন ।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া পারভেজ জানিয়েছেন, সরকারিভাবে এ উপজেলায় একটি কোল্ডস্টোরেজ স্থাপনের জন্য মাননীয় সংসদ সদস্য ডা. জাকিয়া নুরের কাছে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর