• মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০২:৩২ অপরাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
নোটিশ :
* ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে বীরযোদ্ধা অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা * বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী  আবশ্যক। আগ্রহীদের নিম্নে ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য জানানো যাচ্ছে।

ময়মনসিংহে বিধবা ভাতা না পাওয়ায় আছিয়ার আক্ষেপ

বীরযোদ্ধা / ১২৫
প্রকাশিত : ১২:৪০ পিএম, (রবিবার) ১৪ মার্চ ২০২১

আরিফ রব্বানী, ময়মনসিংহ

স্বামী নেই ৩০ বছর। দীর্ঘ সময় পার হলেও জুটেনি সরকারি বিধবা ভাতার কার্ড। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊধ্র্বগতির সময়ে পেটে ভাত জোগান দেওয়াই কষ্টের ব্যাপার। আক্ষেপ করে কথাগুলো বলেছেন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুতিয়াখালী বাজার সংলগ্ন মৃত রহমান মন্ডলের কন্যা ও মৃত নুরুল ইসলামের স্ত্রী আছিয়া খাতুন। তিনি নিজেই একজন ষাটোধ্র্ব বয়সী বৃদ্ধা নারী।

এ ব্যাপারে তিনি ময়মনসিংহের সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটুর সহযোগিতা কামনা করছেন।

তিনি বলেন- মেয়র টিটুর মাঝে মহানুভবতা রয়েছে, রয়েছে গরীবের প্রতি আন্তরিকতা ও ভালবাসা। তিনি তার জন্য একটা বয়স্ক-বিধবা ভাতার ব্যবস্থা করতে মেয়রের সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন।

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ২৩নং ওয়ার্ডের সুতিয়াখালী বাজার সংলগ্ন মৃত রহমান মন্ডলের কন্যা ও মৃত নুরুল ইসলামের স্ত্রী আছিয়া। প্রায় ৩০ বছর পুর্বে তিনি বিধবা হন। তার স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে ঢাকায় বিভিন্ন বাসাবাড়ীতে কাজের বুয়া হিসেবে কাজ করে জীবন-যাপন করেন। বর্তমানে তার পিত্রালয়ে এক চাচাতো ভাইয়ের জায়গায় একটা ছাপড়া ঘর তুলে অবস্থান করছেন। এতদিন ঢাকায় বাসাবাড়িতে কাজের ফাঁকে বাড়ী এসে ২৩নং ওয়ার্ডের সাবেক এলাকা ভাবখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন চেয়ারম্যান মেম্বারদের দ্বারে-দ্বারে ঘুরেছেন একটা বিধবা ভাতার কার্ড পাওয়ার আশায়।

বর্তমানে এলাকাটি সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই দৌড়াচ্ছেন একটা ভাতার কার্ডের আশায়। জন্ম তারিখ অনুসারে তার বয়স ৬৪ বছর হলেও এখনো তার ভাগ্যে জুটেনি বয়স্ক-বিধবা ভাতার কার্ড। আর কত বয়স হলে বয়স্ক অথবা বিধবা ভাতার কার্ড জুটবে তার কপালে এমনি প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। সে অনেকের কাছে তার বয়স্ক ভাতার কার্ড অথবা বিধবা ভাতার একটি কার্ডের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিলেও এখনো পর্যন্ত কার্ড করে দেওয়ার জন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি কেউ। তাই এখন বয়স্কভাতা অথবা বিধবাভাতার কার্ডের আসাই ছেড়ে দিয়েছেন বিধবা আছিয়া।

অসুস্থতা ও বয়সের ভারে নুয়ে পড়া আছিয়া জানান, সুতিয়াখালী এলাটি উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নের আওতায় থাকা কালে কত মেম্বার কত চেয়ারম্যান এলে গেল কেউ তাকিয়েও দেখেনি। বর্তমানে এলাকাটি ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত। এই এলাকায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছেও যোগাযোগ করেছি একটা কার্ডের জন্য। তারা দিবে বলে আশ্বাস দিলেও এখনো আমি কোন কার্ড পায়নি। আশে পাশের অনেকে বয়স্কভাতা অথবা বিধবাভাতার কার্ড পাচ্ছে। কিন্তু আমার কপালে এখনো বয়স্কভাতা অথবা বিধবাভাতার কার্ড জুটেনি।

কে দিবে কার্ড করে, কেউ খোঁজও নেয়না এমনও কথা জানান তিনি। আছিয়া বলেন-স্বামী মরছে পরায় ৩০বছর অইছে, এতদিন শরীরে শক্তি আছিন,মানুষের বাসায়-বাসায় কাজ করে চলতে পারছি,এখন আমার শরীরে শক্তি নাই,লিভারের সমস্যা সহ নানান রোগে ভূগছি,কাজ করবো কিভাবে! একটা কার্ড পাইলে বাকী যে কয়দিন বাঁচি একবেলা অইলেও খাইয়া বাঁচতাম। এ ব্যাপারে ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাব্বির ইউনুস বাবুর সাথে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের জন্য চেষ্টা করলে ফোনটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। তবে- বিধবা আছিয়া আশাবাদী তিনি কার্ড পাবেন।

তিনি বলেন-ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু একজন মানবিক মানুষ। তিনি হয়তোবা আমার করুন আর্তনাদ শুনেনি। তিনি গরীবের জন্য সবসময় পাশে থাকেন। অনেক সুনাম রয়েছে আমাদের মেয়রের। আমার বিশ্বাস তিনি আমার ব্যাপারে জানলে অবশ্যই আমার জন্য একটা কার্ডের ব্যবস্থা করবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর