• সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:০০ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
নোটিশ :
* ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে বীরযোদ্ধা অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা * বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী  আবশ্যক। আগ্রহীদের নিম্নে ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য জানানো যাচ্ছে।

ভালুকায় লেবু চাষে আরিফুলের সফলতা

বীরযোদ্ধা / ১৫৭
প্রকাশিত : ১২:৪৩ পিএম, (বুধবার) ২৮ এপ্রিল ২০২১

বীরযোদ্ধা প্রতিবেদক :

প্রথমে চার কাঠা জমি ভাড়া নিয়ে শুরু হয় লেবু চাষ। এতেই সফলতা পায় আরিফুল। এরপর একে একে আরও তিনটি লেবু বাগান সৃজন করেন। বর্তমানে তিনি চারটি লেবু বাগান থেকে অনেক টাকা লাভের আশা করছেন। বলছিলাম ভালুকা উপজেলার তালাব গ্রামের যুবক আরিফুল ইসলামের কথা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দরিদ্র পরিবারের ছেলে আরিফুল। পড়ালেখা বেশিদূর করা হয়নি তার। নিজের ও সংসারের ভাগ্যন্নোয়নের আশা তার মনে। সিডষ্টোর বাজারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় কাঁচামালের দোকান শুরু করেন। কোনোমতে চলছিল দোকানটি। লেবু কিনতে প্রায়ই যেতো বিভিন্ন বাগানে। সেখানে বাগানের শ্রমিকদের সাথে লেবু চাষ নিয়ে কথা হতো তার। চাষ সম্পর্কে জ্ঞান লব্ধ করেন শ্রমিকদের কাছ থেকেই। আগ্রহ তৈরি হয় নিজেই লেবু বাগান করার। গত তিন বছর আগে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের চেচুয়া গ্রামে বাৎসরিক ৪৫ হাজার টাকায় চার কাঠা জমির লেবু বাগান ভাড়া নেয়। নিজেই করেন বাগানের পরিচর্যা। প্রয়োজন হলে মাঝে মধ্যে এক-দুই জন শ্রমিক নেন। সেই বাগান থেকেই সফলতার মুখ দেখেন তিনি। একে একে আরও তিনটি লেবুর বাগান সৃজন করেন। বর্তমানে ২২ কাঠা জমির ওপর তার চারটি লেবু বাগান রয়েছে। পুরো জমিই তার বৎসরে ভাড়ায় নেওয়া।

লেবু চাষি আরিফুল ইসলাম বীরযোদ্ধাকে বলেন, আমার চারটি বাগানে বারমাসী বিচি বিহীন সিডলেস লেবুর চাষাবাদ করেছি। এ লেবু চাষে আমি সফলতা পাচ্ছি। লেবু বিক্রির পাশাপাশি আমি সিডলেস লেবুর চারা বিক্রি করে থাকি। প্রতিটি চারা ১২ থেকে ২০ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হয়। বেশির ভাগ সময় আমি নিজেই বাগানে পরিচর্যা করি। মাঝে মধ্যে শ্রমিক খাটাতে হয়।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে গাছে প্রচুর লেবু ধরেছে। এছাড়া বহু চারা উৎপাদন করা হয়েছে। ঠিকমত লেবু ও চারা বিক্রি করতে পারলে কমপক্ষে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা লাভের মুখ দেখতে পারবো। কিন্তু অর্থের অভাবে লেবু চাষের জমি ক্রয় করতে পারছিনা। নিজস্ব জমিতে লেবু চাষাবাদ করতে পারলে আরও লাভবান হতে পারতাম। আমি লেবুর বাগান আরও সম্প্রসারণ করতে চাই। এরজন্য আরও পুঁজির প্রয়োজন। কিন্তু প্রয়োজনীয় মূলধন না থাকায় সেটি সম্ভব হচ্ছেনা। সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে ঋণ পেলে আমার এই লেবু বাগান সম্প্রসারণ করতে পারতাম। এতে খুব তাড়াতাড়িই আমার অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব হতো।

হবিরবাড়ী ইউনিয়ন উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বীরযোদ্ধাকে বলেন, আরিফুলের লেবু চাষের খবরটি শুনেছি। লেবু চাষ সম্পর্কিত কোনো পরামর্শ নিতে চাষি আরিফুল আমার শরনাপন্ন হয়নি। তবে শীঘ্রই তার বাগানটি পরিদর্শন করতে যাব।

উপজেলা কৃষি অফিসার নারগিছ আক্তার বীরযোদ্ধাকে জানান, চাষি আরিফুলের লেবু চাষের ব্যাপারে পরামর্শ নিতে আমাদের কাছে আসেনি। তবে তার বাগানটি পরিদর্শনে যাব। প্রয়োজনীয় পরামর্শসহ চাষাবাদে সব রকম সহযোগিতা করা হবে তাকে। পাশাপাশি আরিফুলের ওই লেবু বাগানটি সম্প্রসারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর