• শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
নোটিশ :
* ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে বীরযোদ্ধা অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা * বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী  আবশ্যক। আগ্রহীদের নিম্নে ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য জানানো যাচ্ছে।

পঙ্গু আজিবরের মানবেতর জীবন ধারণ

বীরযোদ্ধা / ৮০
প্রকাশিত : ২:৩২ পিএম, (রবিবার) ২ মে ২০২১

নাজমুল হোসাইন :

যেখানে করোনা মহামারীতে সকলের প্রতি সকলে সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে, সেখানে পঙ্গু আজিবরের দিনকাটে অনাহারে অর্ধাহারে। সহায় সম্বলহীন আজিবর রহমান (৬০)। তিনি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের বনকুড়া গ্রামের বাসিন্দা। সে গ্রামেরই মৃত মজিবর রহমানের ছেলে তিনি। আজিবর একজন রিকশা চালক ছিলেন। গাজীপুরায় রিকশা চালিয়ে যা আয় হতো তা দিয়েই ভাল কাটতে ছিল তার সংসার। পরিবারে তার  তিন ছেলে ও স্ত্রী রয়েছে।

২০১১ সালে আজিবর গাজীপুরায় রিক্সসায় যাত্রী নিয়ে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসা করে কিছুটা সুস্থ হলেও দু’পা অবশ হয়ে যায়। নষ্ট হয়ে যায়, মুখের বাক শক্তি। চিকিৎসা শেষে পঙ্গু আজিবরকে গ্রামের বাড়ীতে আনা হয় ।

এ সময় পঙ্গু আজিবর কর্মহীন হয়ে পড়ে। ছেলে শাহিন (১৮) শান্ত (১৪) ও ১ বছরের শিশু হৃদয়কে রেখে তার স্ত্রী অন্যত্র চলে যান । সে আর ফিরে আসেনি। পরবর্তীতে স্ত্রী ফিরে না আসলেও নানীর সাংসারিক অবস্থা ভাল না থাকায় শিশু হৃদয়ও চলে আসে পঙ্গু বাবার কাছে।

আজিবর জানায়, ভিটে মাটি ছাড়া অন্য কোনো সহায় সম্বল না থাকায় বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নিয়েছেন। তার চলাচলের হুইল চেয়ারটিও ভিক্ষার টাকা দিয়ে কেনা।

তিনি আরও জানান, আমি একটি পঙ্গু ভাতার কার্ডের জন্য মেম্বারের কাছে গেছি। হাত দিয়ে হুইল ঠেলে ঠেলে নন্নী ইউপি চেয়ারম্যানের কাছেও গেছি, তারা আমাকে পাত্তা দেইনা।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত সরকারী বেসরকারী কোনো প্রকার সাহায্য সহযোগিতা জুটেনি তার ভাগ্যে। ভিক্ষাবৃত্তি করে যা পায় তাই দিয়ে কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে চলে তার সংসার। একদিন ভিক্ষাবৃত্তি করতে বের না হলে সেদিন তাদের থাকতে হয় অনাহারে অর্ধাহারে।

নন্নী ইউনিয়নে ৯নং ওয়াডের ইউপি সদস্য শফিকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টা আমি দেখবো, আপনারা পত্রিকায় লিখবেন না, এতে আমার সুনাম ক্ষুন্ন হবে।

এতদিন কেন তাকে কোন সাহায্য সহযোগিতা করা হয়নি জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, তার বউ নেই, তাই তার নামে বরাদ্ধ দেয়া সম্ভব হয়নি।

নন্নী ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম মাহবুবুর রহমান রিটন বলেন, আমি যতটুকু জানি আজিবর পঙ্গুভাতা পায়। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারি তার ভাই আজগর পঙ্গু, সে পায়। আজিবরের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সামনে বরাদ্দ এলে দেয়া হবে।

এ বিষয়ে আজিবর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর