• সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
নোটিশ :
* ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে বীরযোদ্ধা অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা * বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী  আবশ্যক। আগ্রহীদের নিম্নে ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য জানানো যাচ্ছে।

ত্রিশালে হিট ইনজুরিতে ভেস্তে গেছে বোরো আবাদ

বীরযোদ্ধা / ১০০
প্রকাশিত : ৪:৪৯ পিএম, (বৃহস্পতিবার) ৮ এপ্রিল ২০২১

আবু রাইহান, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) :

চারা রোপনের পর থেকে ধান ক্ষেতের পাশেই কাটতো কৃষক বাছির উদ্দিনের অধিকাংশ সময়। বোরোর ভালো ফলনে তার চোখে মুখে ছিল স্বপ্ন আর প্রশান্তির ছাপ। কিন্তু একদিন সকালে উঠে তিনি দেখতে পান তার সব স্বপ্ন তছনছ হয়ে গেছে। ক্ষেতের সব ধান হিট ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে চিটা হয়ে গেছে।

শুধু বাছির উদ্দিনই নয় সম্প্রতি ত্রিশাল উপজেলার আরও প্রায় দুই সহস্রাধিক কৃষকের ১৫৮০ হেক্টর জমির বোরো ধান হিট ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে চলতি মৌসুমে ভেস্তে গেছে কৃষকের বোরো আবাদ।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ত্রিশালে ৬৯ হাজার কৃষকের ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।

আকস্মিকভাবে ‘হিট ইনজুরি’তে (অধিক তাপমাত্রা) আক্রান্ত হয়ে প্রায় দুই সহস্রাধিক কৃষকের ১৫৮০ হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ফ্লাওয়ারিং মুহূর্তে ৩০ ডিগ্রির ওপরে তাপমাত্রা সহ্য করতে না পেরেই ধানগুলো সব চিটা হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব আহমেদ।

সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, ফসলের মাঠে বাম্পার ফলন। কিন্তু ধানের শীষ সাদা রঙ ধারণ করেছে। অনেক কৃষকের ক্ষেতের ধান চিটা হয়ে গেছে। স্বপ্নের ফলন যেন হতাশায় পরিণত হয়েছে।

রামপুর ইউনিয়নের দরিল্ল্যা মধ্যপাড়া গ্রামের কৃষক বাছির উদ্দিন, আবুল হোসেন, খোকন মিয়া, আবুল মুনসুর, মিরু, হারুন অর রশীদ, রফিকুল ইসলাম, তাজুল, গোলাপ মিয়া, শিবলু ফকির, কুতুব উদ্দিন, আকবর আলী, ইব্রাহিম খলিল, জসিম উদ্দিন, হাসিম উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, রুহুল আমিন, আবদুল মোতালেব, রবিদাস ও কৃষানী আয়েশা খাতুনসহ অন্যান্য কৃষকের প্রায় কয়েক শতাধিক জমির বোরো ধান হিট ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

এ ছাড়াও সাখুয়া গ্রামের আবদুল মোতালেব, কাকচর গ্রামের রফিকুল ইসলাম, শরীফ আহমেদ ও কোনাবাড়ী গ্রামের মাজহারুল ইসলাম মনিরসহ উপজেলার প্রায় দুই সহস্রাধিক কৃষকের ফসল নষ্ট হওয়ায় তারা দিশেহারা।

রামপুর ইউনিয়নের দরিল্ল্যা মধ্যপাড়া গ্রামের বাছির উদ্দিন নিজের জমিসহ বর্গা নিয়ে এক একর জমিতে হীরা-১২ প্রজাতির ধানের চারা রোপন করেছিলেন। ধানের চারা, পানি, সার ও শ্রমিকসহ খরচ হয়েছিল ৩৫ হাজার টাকা। ভালো ফলনের আশায় ক্ষেতের আইলে আইলে কেটেছে তার অধিকাংশ সময়। চোখে মুখে ছিল স্বপ্ন আর প্রশান্তির ছাপ। সোমবার ভোরে ক্ষেতের কাছে গিয়ে দেখেন সব ধান চিটা হয়ে গেছে। একমাত্র আয়ের উৎস সেই ফসল হারানোর যন্ত্রণায় তিনি পাগলের মতো ছুটে আসেন কৃষি অফিসে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেই এমন হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানালে হতাশা নিয়ে ফিরে আসেন বাড়িতে।

ওই গ্রামের কৃষি নির্ভর আদর্শ কৃষক আবুল হোসেন বলেন, আমার ৭৩ বছর বয়সে এমন নজিরবিহীন ঘটনা আর কোনোদিন দেখিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব আহমেদ জানান, ফ্লাওয়ারিং মুহুর্তে ৩০ ডিগ্রির ওপরের তাপমাত্রা সহ্য করতে না পেরে ধানগুলো সব চিটা হয়ে গেছে। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর