• সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৮:২০ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
নোটিশ :
* ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে বীরযোদ্ধা অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা * বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী  আবশ্যক। আগ্রহীদের নিম্নে ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য জানানো যাচ্ছে।

ঝুকিপূর্ণ হচ্ছে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড উড়াল সেতু

বীরযোদ্ধা / ১৮৫
প্রকাশিত : ৯:২৫ পিএম, (বুধবার) ১০ মার্চ ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক

দিনকে দিন ঝুকিপূর্ণ হচ্ছে ময়মনসিংহের ভালুকা পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের স্ট্রীলের তৈরি উড়াল সেতুটি। সিঁড়ির রেলিংয়ের নাট ঢিলে হওয়া ও পাটাতন জ্বালাই ছেড়ে দেওয়ায় পথচারিদের চলাচলের সময় খট খট শব্দে আতঙ্ক তৈরি হয়। ফলে দিন দিন ওই সেতুটি দিয়ে চলাচলে অনিহা বাড়ছে পথচারিদের। একমতো ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে মহাসড়ক পার হচ্ছে তারা। বড় কোনো দূর্ঘটনা ঘটার আগেই সেতুটি মেরামতের দাবি জানিয়েছে পথচারিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ফোরলেনে উন্নীত হওয়ার সময়ে ভালুকা বাসস্ট্যান্ডের ওই ফুটওভার ব্রীজ অর্থাৎ পায়ে চলার উড়াল সেতুটি নির্মান করা হয়। কিন্তু সেতুটিতে উঠার রাস্তা ও সেতুর ছাউনী বাকী রেখেই কাজ শেষ হয়। পরবর্তীতে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফোরলেনের মাঝখানে রোড ডিভাইডার ওয়াল অর্থাৎ স্ট্রীলের ব্যারিকেড ওয়াল দেওয়া হলে পথচারিরা বাধ্য হয়েই ওই উড়াল সেতুটি ব্যবহার শুরু করে। তাছাড়া ওই উড়াল সেতুর পশ্চিম পাশে ভালুকা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ওই সেতুটি দিয়ে পারাপার হয়। স্ট্রীলে তৈরি সেতুটি বর্তমানে সিঁড়ির রেলিংয়ের নাট ঢিলে হয়ে গেছে এবং অনেক স্থানে পাটাতনের জ্বালাই ছেড়ে দিয়েছে। এর ফলে পথচারিরা সিঁড়ি বেয়ে উঠার সময় রেলিং ও পাটাতন নড়াচড়া এবং খটখট শব্দ করে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে চলাচলকারিরা। এ সমস্যার কারণে দূর্ঘটনার ঝুঁকি জেনেও মহাসড়কে পায়ে হেঁটে চলাচল করছে মানুষ। গত কয়েক মাস পূর্বে মহাসড়কের ব্যারিকেড ওয়াল ডিঙিয়ে পার হওয়ার সময় গফরগাঁও এলাকার এক যুবক নিহত হন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পথচারি জানান, সিঁড়ি ও পাটাতনের সমস্যা তো আছেই। দীর্ঘদিন ধরে উড়াল সেতুটির বিভিন্ন স্থান দখল করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে মাইকিং করে টাকা আদায় করা হয়। ভিক্ষুকরা তো আছেই। এদের কারণে পথচারিরা ঠিকমত চলাচল করতে পারেনা। তাছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে সেতুটিকে ঘিরে রাখা হয়েছে। দুর থেকে মনে হবে এটি একটি বিলবোর্ড। আগে বিদ্যুতের ব্যবস্থা ছিল না। দিনকে দিন ওভারব্রীজের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পৌর কর্তৃপক্ষ এটিতে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করে। তবে লোডশেডিংয়ের সময় দূর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে অনেক। তিনি আরও জানান, রাত ১০টার পর সেখানে বিভিন্ন উঠতি বয়সী যুবকদের বিচরন বেড়ে যায়। এরা অধিকাংশরাই ধুমপায়ী ও মাদকসেবী। হাইজ্যাকের তেমন বড় কোনো ঘটনা না থাকলেও হতে বেশি দেরি নেই।

ভালুকা প্রেসক্লাব সভাপতি এস এম শাহজাহান সেলিম বলেন, দিন দিন ব্রীজটির অবস্থা খারাপ হচ্ছে। আমি নিজে যখন ব্রীজটি দিয়ে পার হই তখন ভীষন ভয় লাগে। সিঁড়ির রেলিং ও পাটাতন দুটোরই অবস্থা খারাপ। আগামী বর্ষা মৌসুমে ব্রীজটিতে চলাচল করা বিপদজনক হয়ে উঠবে।

ভালুকা ট্রাফিক সার্জেন্ট আকরামুল রাজীব বলেন, বাসস্ট্যান্ডে দূর্ঘটনা ঝুঁকি এড়াতে মিনিস্টার কোম্পানীর সহযোগিতায় রোড ডিভাইডার ওয়াল করি। এরপরও কিছু মানুষ ব্যারিকেড ভেঙে মহাসড়ক পার হয়। বাসস্ট্যান্ডের ওই ফুটওভার ব্রীজটিতে আমি উঠেছি। ব্রীজটি সিড়ি ও পাটাতনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া চলাচলের সময় নড়াচড়া করে।

পৌর মেয়র ডাঃ এ কে এম মেজবাহ উদ্দিন কাইয়ূম জানান, ঝুটিপূর্ণ হলে অবশ্যই মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগামী মিটিংয়ে কথা বলব। ব্রীজের সমস্যার স্থানগুলো চিহ্নিত করে মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর