• সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
নোটিশ :
* ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে বীরযোদ্ধা অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা * বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী  আবশ্যক। আগ্রহীদের নিম্নে ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য জানানো যাচ্ছে।

ঝিনাইদহে মানুষ শুন্য গ্রামে ৮০ বছর পর আবারো বসতি শুরু

বীরযোদ্ধা / ৪৯
প্রকাশিত : ৩:৫০ পিএম, (শুক্রবার) ২৫ জুন ২০২১

খালিদ হাসান :

কাগজে মঙ্গলপুর গ্রামটির অস্তিত্ব থাকলেও বাস্ততে এতদিন এখানে কোন বসতি ছিলনা। প্রায় ৮০ বছর পর জন মানুষ শুন্য গ্রামে আবারও শুরু হয়েছে মানুষের বসবাস। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভূমিহীন পরিবারকে আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় আট পরিবার এই গ্রামের বসবাস শুরু হয়েছে।

গত ২০ জুন রবিবার তাদের প্রত্যেককে ঘর ও দুই শতক জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশের বাগডাঙ্গা, পাশপাতিলা ও বলাবাড়িয়া গ্রামের আট ভূমিহীন পরিবারকে এই ঘর দেওয়া হয়। তারা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। মঙ্গলপুর গ্রামটির অবস্থান ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নে। কোটচাঁপুর শহর থেকে চৌগাছা সড়ক ধরে তিন কিলোমিটার পথ গেলেই রাস্তার বাম পাশে দেখা মিলবে গ্রামটির। ইউনিয়ন ভূমি অফিস বলছে, মঙ্গলপুর গ্রামটি উপজেলার ৬৬ নম্বর মঙ্গলপুর মৌজায় অবস্থিত। এই মৌজায় একটিই গ্রাম রয়েছে যার নাম মঙ্গলপুর। গ্রামে ২০৬টি খতিয়ানভুক্ত জমি আছে কিন্তু সেখানে কোনো পরিবারের বসবাস ছিল না।

মঙ্গলপুরে ঘর পাওয়া সবিতা দাস ও খোকন দাস বীরযোদ্ধা ডট কমকে জানান, আমরা ঘর ও জমি পেয়ে খুবই খুশি। তবে কথিত এই গ্রামের অমঙ্গল নিয়ে ভিত নয়। তাদের ভাষ্য, এখন মানুষ আর রোগ নিয়ে ভয় পায় না। সচেতন হলেই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। মঙ্গলপুর গ্রামে থাকা পুকুর রাস্তাসহ কয়েকটি বাড়ির সামান্য ধ্বংসাবশেষ দেখে অনুমান করা যায় এখানে এক সময় জনবসতি ছিল। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ বছর আগে “মঙ্গলপুর” নামের এই গ্রামের মানুষের মধ্যে অমঙ্গল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কলেরা বা গুটি বসন্তের মত মহামারি রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগে অনেকে মারা যায়। এসময় প্রাণে বাঁচতে সবাই গ্রাম ছেড়ে চলে যায়। তখন থেকে গ্রামটি মানুষ শুন্য হয়ে পড়ে।

কোটচাঁদপুর এলাকার প্রবীন এক ব্যক্তি মোশারফ হোসেন জানালেন, ৭০ থেকে ৮০ বছর আগে মঙ্গলপুর গ্রামে মহামারি আকারে কলেরা রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এতে অনেক মানুষ মারা যায়। এ আতঙ্কে গ্রামের মানুষ আশপাশের গ্রামে আশ্রয় নেয়। তবে তারা আর ফিরে আসে না। আর কিছু পরিবার ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পাশ^বর্তী দেশ ভারতে চলে যান।

পাশের পাশপাতিলা গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বীরযোদ্ধা ডট কমকে জানান, আমরা লোকমুখে শুনে আসছি এ গ্রামে এক সময় মানুষের বসবাস ছিল। কিন্তু মহামারি আতঙ্কে গ্রামের সবাই পালিয়ে যায়। সেই থেকে মঙ্গলপুর গ্রামকে সবাই অমঙ্গলপুর বলে জানে। তবে সরকারের বিশেষ প্রকল্পের আওতায় ওই গ্রামের ভূমিহীন কিছু মানষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে এটা ভালো। সরকারের চেষ্টায় অমঙ্গলপুরে মঙ্গলের হাওয়ায় অজানা আতঙ্ক কেটে যাবে বলে যোগ করেন এই বাসিন্দা।

বলাবাড়িয়া গ্রামের আমিরুল ইসলাম বীরযোদ্ধা ডট কমকে জানান, মঙ্গলপুর গ্রামের অধিকাংশ মানুষ হিন্দু সম্প্রদায়ের ছিল। গ্রামে যখন কলেরা মহামারি আকার ধারন করে তখন অনেক মানুষ মারা যায়। ওই সময় গ্রামে একটা কথা ছড়িয়ে পড়ে গ্রামের খাল-বিল, পুকুর-কুয়ার পানি নষ্ট হয়ে গেছে। এখানে থাকলে সবাইকে মরতে হবে। এই প্রচারের পর গ্রামের মানুষ দল বেধে ভারতে চলে যায়। কিছু মানুষ পাশের গ্রামগুলোতে চলে গিয়েছিল, যারাও পরে অন্যত্র চলে যায়।

তিনি আরও জানান, সর্বশেষ নেটে ঠাকুর নামের একজন মঙ্গলপুরে থাকতেন, তিনি পরবর্তীতে খুন হলে গ্রামটি সম্পূর্ণ ভাবে

মানুষশুন্য হয়ে পড়ে।
এলাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বীরযোদ্ধা ডট কমকে বলেন, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও যশোরের চৌগাছা উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম মঙ্গলপুর। কিন্তু এই গ্রামে দির্ঘদিন মানুষের বসবাস ছিল না। তিনি লোকমুখে শুনেছেন, বহুবছর আগে অজানা আতঙ্কে মানুষ গ্রাম ছেড়ে চলে যায়। জনমানব শুন্য ওই গ্রামে আজ আট পরিবারের বসবাস শুরু হয়েছে। আস্তে আস্তে গ্রামে আরও বসতি গড়ে উঠবে প্রত্যাশা করেন এই ইউপি চেয়ারম্যান। এর আগে মঙ্গলপুর গ্রামের মনুষের গ্রামে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর একটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করে। ইতোমধ্যে তাদের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর