• মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০১:৩৮ অপরাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
নোটিশ :
* ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে বীরযোদ্ধা অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা * বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী  আবশ্যক। আগ্রহীদের নিম্নে ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য জানানো যাচ্ছে।

ঝিনাইদহে বয়স্ক-প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা তুলে নিল কলেজ ছাত্র!

বীরযোদ্ধা / ৩৭
প্রকাশিত : ৭:৩৫ পিএম, (রবিবার) ৩ অক্টোবর ২০২১

খালিদ হাসান, ঝিনাইদহ :

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের বাথপুকুরিয়া গ্রামের একাধিক ব্যক্তির বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধি ভাতার টাকা নগদ একাউন্ট থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। টাকা উদ্ধারের দাবিতে তারা গত শনিবার ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের দারস্থ হন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পেয়েছেন।

ভাতাভোগীদের অভিযোগ স্থানীয় সাগান্না ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বর আব্দুল ওহাবের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত রাজন নামে এক কলেজ ছাত্র এই টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন। ডাকবাংলা বাজারের নগদ এর এজেন্ট হবিবুর রহমানও স্বীকার করেছেন রাজন মাঝেমধ্যে এসে ভাতাভোগীদের টাকা উঠিয়ে নিয়ে যায়।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা পুলিশ ফাড়ির এএসআই মাখন বিশ্বাস জানান, ভাতাভোগী নুরুল ইসলাম, ফেরদৌসি খাতুন, নুর আলম ও বাবুল হোসেন ভাতার টাকা না পেয়ে থানায় অভিযোগ করেন। বিষয়টি তিনি সরেজমিন তদন্ত করে দেখেছেন বাথপুকুরিয়া গ্রামের প্রায় ৬/৭ জন বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধি তাদের ভাতার টাকা পাননি। বিষয়টি প্রযুক্তিগত ও জটিল হওয়ায় তিনি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে ভুক্তভোগীদের শনিবার থানায় ডেকে তাদের বক্তব্য শোনেন। ভাতাভোগীরা ইউপি মেম্বরের সহযোগি বাথপুকুরিয়া গ্রামের শাহিন মিয়ার ছেলে রাজনকে অভিযুক্ত করে বক্তব্য দেন।

প্রতিবন্ধি ফেরদৌছি বেগম অভিযোগ করেন, রাজন তাদের বই ও সিমসহ মোবাইল নিয়ে যায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে একাউন্টে কোন টাকা নেই। টাকা তুলে দেওয়ার কথা বলে দুই’শ টাকাও নেয় রাজন। একই কথা জানান, বাথপুকুরিয়া গ্রামের বিধবা শামারুপ নেছা, একই গ্রামের আছিয়া বেগম, আমেনা খাতুন, প্রতিবন্ধি নুর আলম ও বাবুল। তাদের ভাষ্য কলেজ ছাত্র রাজন টাকা উত্তোলনের কথা বলে নিজেই তাদের টাকা তুলে নিয়েছেন। এই টাকা তুলে সে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছে। আব্দুল খালেক নামে এক প্রতিবন্ধির পিতা জানান, ব্যাংক থেকে যখন টাকা প্রদান করা হতো তখন তাদের কোন টাকা খোয়া যায়নি। মোবাইল ব্যাংকিং চালু হওয়ার পর তাদের এলাকার বহু মানুষের ভাতা নগদ একাউন্ট থেকে হাওয়া হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে কলেজ ছাত্র রাজন জানান, তিনি কারো টাকা উত্তোলন করেন নি। সামনে নির্বাচন, তাই প্রতিপক্ষরা আমার উপর এ রকম মিথ্যা দায় চাপাচ্ছে।

স্থানীয় সাগান্না ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বর আব্দুল ওহাব বলেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচন নিয়ে দলাদলির কারণে এ ধরণের মিথ্যা অভিযোগ থানায় দেওয়া হয়েছে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা পুলিশ ফাড়ির এ এস আই মাখন বিশ্বাস জানান, তারা যে টাকা পায়নি এটা সত্য। এই টাকা কীভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে তা তদন্তের বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহে শত শত মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসুচির টাকা ‘নগদ’ একাউন্ট থেকে উধাও হয়ে গেছে। একাউন্ট হ্যাক করে কে বা করা হতদরিদ্রদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তার রহস্য এখনো সমাজসেবা অধিদপ্তর জানাতে পারেনি। টাকার শোকে হতদরিদ্ররা আহাজারি করলেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর