• বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
নোটিশ :
* ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে বীরযোদ্ধা অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা * বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী  আবশ্যক। আগ্রহীদের নিম্নে ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য জানানো যাচ্ছে।

ঝিনাইদহে পেঁয়াজের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

বীরযোদ্ধা / ১০৩
প্রকাশিত : ৪:২৭ পিএম, (বৃহস্পতিবার) ১১ মার্চ ২০২১

খালিদ হাসান, ঝিনাইদহ

অঙ্কুরোদগম না হওয়াসহ মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজ বীজ নিয়ে কৃষকেরা নানান সংকটে পড়লেও এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে ঝিনাইদহে। মাঠ থেকে পেঁয়াজ বাড়িতে এনে কাটা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করাসহ বাজারজাত ও ঘরে রাখার ধুম পড়েছে। যেন হাসছে পেঁয়াজ, বাজারদরও যাচ্ছে ভাল তাই হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখেও। প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে। প্রতি ১বিঘা জমি থেকে কৃষকেরা কমপক্ষে ১শ ২০মণ করে পেঁয়াজ ঘরে তোলছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অদিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহে এবার পেঁয়াজ চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ৯ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে, তবে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে ১০ হাজার ৪৭২ হেক্টর জমিতে। ঝিনাইদহের ৬টি উপজেলার ভেতরে শৈলকুপা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ চাষ হয়। এই উপজেলার মাঠের পর মাঠ শুধুই পেঁয়াজ। জেলার ১০ হাজার ৪৭২ হেক্টর জমির পেঁয়াজের মধ্যে এখানেই চাষ হয়েছে ৭ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে। দেশের পেঁয়াজের চাহিদার বড় একটি অংশের যোগান হয় শৈলকুপাতে। এখন চলছে পেঁয়াজ উত্তোলনের মৌসুম। শৈলকুপাতে শনি ও মঙ্গলবার সপ্তাহে দুটি হাট বসে পেঁয়াজের। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার ও ব্যাপারীরা একদিন আগেই চলে আসে শৈলকুপাতে, তারা ট্রাকে ভর্তি করে পেঁয়াজ নেয় দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে।

ব্যবসায়ীরা জানান, এখানকার পেঁয়াজ ঢাকার কারওয়ান বাজার, ভৈরব, সিলেট, চট্রগাম, খুলনা, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায়।

সরেজমিনে, শৈলকুপা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে পেঁয়াজের ছড়াছড়ি, হয়েছে বাম্পার ফলন। পাইকপাড় গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পেঁয়াজ, ক্ষেতেও রয়েছে। কৃষকেরা বাড়িতে এনে স্তুপ করে রেখেছেন বিক্রির আশায়। তবে পেঁয়াজ সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থা না থাকায় বেশীর ভাগ পেঁয়াজ তোলেই বিক্রি করতে বাধ্য হন উপজেলার কৃষকরা।

শৈলকুপা কৃষি অফিস জানিয়েছে, উপজেলায় চাষযোগ্য মোট জমি আছে ২৮ হাজার ৫০০ হেক্টর। তার মধ্যে এ বছর পেঁয়াজের চাষ হয়েছে ৭ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে শুধু পাইকপাড়া গ্রামে চাষ হয়েছে ৩৫০ হেক্টর জমিতে। বারি-১, লাল তীর, লাল তীর কিংসহ বেশ কয়েকটি জাতের পেঁয়াজ বেশি চাষ হচ্ছে। এ বছর অনেক কৃষক সুখসাগর জাতও চাষ করেছেন।

পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির বাইরে মেয়েরা পেঁয়াজ থেকে গাছ কেটে আলাদা করছেন। বাড়ির মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পেঁয়াজ। ঘর-বারান্দা কোথাও একটু খালি জায়গা নেই। শোবার ঘরের খাটের নিচেও পেঁয়াজ। তিনি জানান, এ বছর ৮ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছেন । এসব জমিতে হাইব্রীড লাল তীর কিং জাত রয়েছে। যার মধ্যে অর্ধেক জমির পেঁয়াজ বাড়িতে নিয়ে এসেছেন। এখনও মাঠে পেঁয়াজ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রতি বিঘায় সব মিলিয়ে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এক বিঘায় (৪০ শতাংশ) ১শ ২০ মণ করে পেঁয়াজ পাচ্ছেন। যা বর্তমান বাজার প্রতি মণ ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। ১ বিঘাতে ঘরে আসবে কমপক্ষে ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ।

শৈলকুপার চর সোন্দহ গ্রামের কৃষক আমিরুল ইসলাম জানান, তিনিও তার জমিতে এবার পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ক্ষেত থেকে ৬শ মণ পেঁয়াজ পাবেন বলে আশা করছেন।

আমিরুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে এ উপজেলায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। যে কারণে কৃষকরা পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারেন না। তাই অনেক সময় সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।

কৃষকেরা জানান, এ মৌসুমে পেঁয়াজ চাষের শুরুতে বীজ নিয়ে তারা সংকটে পড়ে। বেশির ভাগ বীজে ভাল অঙ্কুরোদগম হয়নি, চারা গজায়নি, ফলে বাড়তি বীজ লাগে। কেউ কেউ ডাবল করে বীজতলায় বীজ ফেলতে বাধ্য হয়। অসাধু ব্যবসায়ী ও বীজ ডিলাররা সুযোগ বুঝে বাড়িয়ে দেয় দামও ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঝিনাইদহের উপ-পরিচালক মোঃ আজগর আলী জানান, অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এবার ঝিনাইদহে লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশী জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে, ফলনও বাম্পার হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর