• শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
নোটিশ :
* ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে বীরযোদ্ধা অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা * বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী  আবশ্যক। আগ্রহীদের নিম্নে ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য জানানো যাচ্ছে।

ঝিনাইদহে পাঁচ বছরে দুই সহস্রাধিক নারী-পুরুষের আত্মহনন

বীরযোদ্ধা / ২৪
প্রকাশিত : ৯:২৪ পিএম, (মঙ্গলবার) ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

খালিদ হাসান, ঝিনাইদহ :

ঝিনাইদহে আত্মহত্যার সংখ্যা কমলেও বেড়েছে পুরুষদের আত্মহত্যার হার। সেই সঙ্গে বেড়েছে একসাথে আত্মহত্যার প্রবণতা। জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৬ সাল থেকে চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৫ বছরে ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় পারিবারিক কলহ, প্রেমে ব্যর্থতাসহ নানা কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে ২ হাজার ৪১ জন নারী-পুরুষ। বর্তমানে করোনাকালে জেলায় আত্মহত্যার সংখ্যা কমলেও বেড়েছে পুরুষদের আত্মহত্যার হার। তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, ২০১৬ সালে জেলায় মোট আত্মহত্যা করে ৩৮৮ জন। এর মধ্যে নারী ২১৯ জন ও পুরুষ ১৬৯ জন, ২০১৭ সালে আত্মহত্যার সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ৪২৪ জনে। এদের মধ্যে নারী ২৩৭ জন ও পুরুষ ১৮৭ জন। ২০১৮ সালের পর থেকে জেলায় কমতে থাকে আত্মহননের সংখ্যা। সে বছর আত্মহত্যা করে ৩৯৬ জন। এদের মধ্যে নারী ২২০ জন ও পুরুষ ১৭৬ জন। ২০১৯ সালে আত্মহত্যা করে ৩০৬ জন। যার মধ্যে নারী ছিল ১৭১ জন ও পুরুষ ছিল ১৩৫ জন। ২০২০ সালে জেলায় মোট আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ৩২০ জন। যার মধ্যে নারী ছিল ১৬৯ জন ও পুরুষ ছিল ১৫১ জন। আর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আত্মহত্যার সংখ্যা ২০৬ জন। যার মধ্যে নারী ১০৮ জন ও পুরুষ রয়েছে ৯৮ জন।

গত ৫ বছরের তথ্য বিবেচনায় নারীদের আত্মহত্যার সংখ্যা বেশি। কিন্তু করোনাকালে বেড়েছে পুরুষদের আত্মহত্যার প্রবণতা। তথ্য বলছে, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পুরুষদের আত্মহত্যার হার ৪৩ থেকে ৪৪ ভাগ থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে দাড়িয়েছে ৪৭ ভাগের বেশি। কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লকডাউনে কর্মহীন আর পাবিবারিক কলহ আর হতাশা। জেলা সনাকের সভাপতি সায়েদুল আলম বলেন, বর্তমানে আমরা দেখছি পারিবারিক কলহ, মনমালিণ্য, প্রেমে ব্যার্থতাসহ নানা কারণে একসাথে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এ ধরনের সংবাদ আসছে। সামাজিক এই ব্যাধি দূর করতে দ্বায়িত্ব নিতে হবে সরকার, সমাজ ও পরিবারের। বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে তৃণমুল পর্যায়ে গিয়ে আত্মহত্যার কু-ফল সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে হবে।

আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংক্রান্ত নানা বিষয়ে কাজ করে ঝিনাইদহের সোসাইটি ফর ভলান্টারি অ্যাকটিভিটিজ (শোভা) নামের একটি সংগঠন। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বলেন, করোনা কালে আত্মহত্যার হার কমেছে। তবে পুরুষদের আত্মহত্যার হার বেড়েছে। আয়-রোজগার না থাকা, হতাশা বা মানসিক অস্থিরতাই এর কারণ বলে জানান তিনি। জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঝিনাইদহসহ এ অঞ্চলের মানুষ কিছুটা আবেগ প্রবণ। যে কারণে আত্মহত্যার হার এখানে বেশি। এ জেলার মানুষ কখনও আইলা দেখেনি, কখনও দেখেনি রাতের আঁধারে নিজেদের ঘর-বাড়ি নদীতে বিলিন হতে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষ অনেকটা সংগ্রামী। কিন্তু এ এলাকার মানুষ প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগের সম্মুখীন হয়নি। তারা একটু বেশিই আবেগ প্রবণ। আত্মহত্যার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে এটাও অন্যতম। তিনি আরো বলেন, আত্মহত্যা সমাজ থেকে দূর করতে সমাজের সর্বস্তুরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করলেই এটি দূর করা সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর