• শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
নোটিশ :
* ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে বীরযোদ্ধা অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা * বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী  আবশ্যক। আগ্রহীদের নিম্নে ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য জানানো যাচ্ছে।

ঝিনাইদহে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ ট্রাক্টর, মরছে পথচারি

বীরযোদ্ধা / ৫১
প্রকাশিত : ৪:৪০ পিএম, (শনিবার) ২০ মার্চ ২০২১

খালিদ হাসান, ঝিনাইদহ

রোড পারমিশন নেই তবুও জেলাজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ মাটি টানার ট্রাক্টর। এ পর্যন্ত ট্রাক্টরের নিচে পড়ে মারা গেছেন অন্তত ৩ জন। বহু আহত হওয়ার ঘটনা রয়েছে। শনিবারও মহিদুল নামে এক ব্যক্তি মাটি টানা ট্রাক্টরের নিচে পড়ে নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে ঝিনাইদহ ট্রাফিক পুলিশের কোনো মাথা ব্যথা নেই। নেই প্রতিরোধের কোনো ব্যবস্থা।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে, সারা জেলায় শতাধিক মাটি টানা ট্রাক্টর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। পাশ্ববর্তী চুয়াডাঙ্গা ও যশোর থেকে ভাড়ায় নিয়ে আসা হচ্ছে এসব ঘাতক যানবাহন। ইটভাটার কাজে ব্যবহৃত এসব ট্রাক্টরগুলোর নেই কোনো বৈধ কাগজপত্র। সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হলো শিশু-কিশোররা এসব ট্রাক্টর চালাচ্ছে। তাদের নেই কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স। নেই দক্ষভাবে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা। বেপরোয়া গতিতে ট্রাক্টরগুলো গ্রামীন রাস্তাঘাট দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

সারা জেলার বৈধ অবৈধ ইটভাটার মাটি টানা হচ্ছে ওই টাক্টর দিয়ে। ফলে ৬ উপজেলায় এলজিইডির গ্রামীণ সড়ক ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পাকা সড়কে মাটি পড়ে বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে সড়ক রক্ষার জন্য ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর ১৯৫২ সালের বিল্ডিং কনষ্ট্রাকশন এ্যক্টের ৩ ধারা মতে একটি পরিপত্র জারি করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের (উন্নয়ন-২) উপ-সচিব জেসমিন পারভিন। ওই আইনের দন্ডবিধির ১৮৬০ এর ধারা ৪৩১ মোতাবেক সরকারি রাস্তার ক্ষতি সাধন ফৌজদারী দন্ডনীয় অপরাধ। এই আইনে ৫ বছরের কারাদন্ড, জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে সরকারি রাস্তার ক্ষতি সাধন হয় এমন কাজ করা যাবে না। অথচ রহস্যজনক কারণে উদাসিন জেলা প্রশাসন।

ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মো. সালাহউদ্দীন জানান, ইটভাটার মাটি টানা ট্রাক্টরের ওপরে তাম্বু ফেলে মাটি টানার কথা। যাতে মাটি পাকা রাস্তার ওপর না পড়ে। তিনি বলেন বিষয়টি জেলা ইটভাটা মালিক সমিতিকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। তারা যদি ব্যবস্থা গ্রহণ না করেন তবে আমরা আইনী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।

বিষয়টি নিয়ে জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মাহমুদুল ইসলাম ফোটন জানান, সব ভাটা মালিকদের এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা মানছে না। তিনি বলেন, আগে কিন্তু রাস্তায় মাটি পড়তো না। কারণ তখন ওভারলোড করতো না। এখন অধিক মুনাফা কারার জন্য ড্রাইভাররা ওভারলোড দিচ্ছে।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে, চাকলাপাড়া থেকে হরিণাকুন্ডু সড়ক এবং ঝিনাইদহ থেকে চুয়াডাঙ্গা সড়ক বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া কালীগঞ্জের বারোবাজার, মহেশপুর, শৈলকুপা, কোটচাধপুর ও হরিণাকুন্ডুর গ্রামীন রাস্তাগুলো চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ নেই। নেই ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান। ফলে দিনকে দিন পথচারিদের কাছে সড়ক মহাসড়ক অসহনীয় হয়ে উঠছে।

এদিকে শনিবার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের আড়ুমুখী গ্রামের স্কুলপাড়ায় মাটি টানা ট্রাক্টরের চাপায় মহিদুল বিশ্বাস (৫৫) নামের এক কৃষক নিহত হন। মহিদুল বিশ্বাস সদর উপজেলার আড়মুখী গ্রামের হুরমত বিশ্বাসের ছেলে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান খবরের সত্যতা স্বীকার করেন।

এর আগে মহেশপুর ও হরিণাকুন্ডুর তেলটুপি নামক স্থানে মাটি টানা পরিবহনের ধাক্কায় দুইজন নিহত হয়েছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর