• রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ১১:৪০ অপরাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
নোটিশ :
* ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে বীরযোদ্ধা অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা * বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী  আবশ্যক। আগ্রহীদের নিম্নে ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য জানানো যাচ্ছে।

চুলে জটা নিয়ে ভ্রান্ত ও অমূলক ধারণা, পরিচ্ছন্নতাই নির্মূল জট মুক্ত চুল

বীরযোদ্ধা / ৫২
প্রকাশিত : ১১:৩৯ এএম, (বৃহস্পতিবার) ৮ জুলাই ২০২১

আশরাফ আহমেদ :

প্রাচীনকাল থেকেই চুলের জটা ধরা নিয়ে মানুষের মাঝে কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণা বিরাজমান। হিন্দুত্ব, বৌদ্ধ ধর্ম, ইহুদী এবং খ্রিস্টান ধর্মে এই ধরনের কেশ জটার প্রচলন ছিলই, পরবর্তীতে আফ্রিকায় এর প্রচলন হয় সর্বাধিক। সাধু সন্ন্যাসীদের মাথার জটায় ঈশ্বরের বাস। এমনটা আগেও ছিল, এই বিশ্বাস আছে এখনও।  হিন্দু ধর্মে ভাষ্য, জটাধারী শিবের জটা থেকেই নেমে এসেছিলেন গঙ্গা। জটাতেই নাকি গঙ্গাকে ধরে রেখেছেন দেবাদি দেব মহাদেব। ইসলাম ধর্মে কতিপয় মানুষেরা চুলে জটাধারীকে নিয়ে জিনের কু-নজর ধারণা বিশ্বাস করে। চুলে জটা কাটলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা মনে করা হয়। অনেকেই মনে করেন, জটা ঈশ্বর প্রদত্ত (একান্ত আপন বিশ্বাস), সেখানে চুলে চিরুনি তল্লাশি নিষিদ্ধ। নোংরা জমে জমে জটা হয় আবার যত্ন সহকারেও চুলে জটা তৈরি করা যায়, আধুনিক সমাজ তো তাই করে।

জানা যায়, চুল হলো মূলত কেরাটিন নামক শক্ত প্রোটিন দিয়ে তৈরি এক ধরনের তন্তু। এর পিএইচ প্রায় ৫.৫। কোন কারণে এই পিএইচ বেড়ে গেলে এই প্রোটিনের চারিত্রিক পরিবর্তন ঘটে অর্থাৎ কিছুটা নরম হয়ে আঠালো মত হয়। ফলে এক চুল আরেক চুলের সাথে জোড়া লেগে যায়। স্বাভাবিক অবস্থায় এটা যেন না হয় তার জন্য প্রতিটি চুলের গোড়ায় একটি করে তেল গ্রন্থি (সিবেসিয়াস গ্ল্যান্ড থাকে) যা থেকে উৎপন্ন তেল চুলের দৈর্ঘ্য বরাবর ছড়িয়ে পড়ে। সেবাম তেল ফ্যাটি এসিড দিয়ে তৈরি তাই এর পিএইচ চুলের পিএইচের খুব কাছাকাছি। কিন্তু চুল লম্বা হওয়ার কারণে কিংবা চুল আঁচড়ানোর মাধ্যমে সেবাম তেল পুরো চুলে ছড়িয়ে না দেবার কারণে কিংবা কোন কারণে তৈলগ্রন্থি থেকে কম তেল (সেবাম) তৈরি হলে চুলে জট লেগে যেতে পারে। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে চুলের জট চুলের গোড়ায় নয় বরং চুলের শেষ প্রান্তে লাগে। কারণ সবসময় সেবাম তেল চুলের প্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে না। এ কারণেই নিয়মিত চুল আঁচড়ানো খুব দরকার এবং একই কারণে চুলে নারিকেল তেল বা অন্যন্য উপকারি তেল ব্যবহার করা হয়। গোসলের পর চুলে জট লেগে যাওয়ার কারণও একই। পানির পিএইচ ৭ যা চুলের চেয়ে বেশি। তাই চুল বেশিক্ষণ পানিতে ভিজে থাকলে ভেজা চুলে জট বেঁধে যায়। এজন্যই অনেকে চুলে তেল ম্যসেজ করে গোসল করতে যায়। চুলে তেল মেখে থাকায় পানি চুলের সংস্পর্শে আসতে পারে না, ফলে জট বাঁধাতে পারে না। চুলের জটা নিয়ে কথা হয় কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে দ্বীপেশ্বর গ্রামের গোলাপ ফকিরের সাথে। তিনি বলেন, হঠাৎ একদিন পুকুরে গোসল করতে গিয়ে আমার মাথায় জটা হয়। আমার স্ত্রীর মাথায় ও জটা হয়। মানুষের কথায় আমার স্ত্রীর মাথার চুলে জটা কেটে ফেললে আমার স্ত্রী সাথে সাথে অন্ধ হয়ে যায়। আল্লাহ আমার মাথায় জটা দিয়েছে। তাই মাথার জটা নিয়ে আমি এখন ফকিরী করি।

তার মতো হোসেনপুরের কালু শাহ মাজারের বিল্লু ফকির, বানেছা বানু, হাসু ফকিরের সাথে কথা হয়। তারা জানান, আমাদের মাথায় চুলে জটা আল্লাহ দিয়েছে। এই জটায় কখনো হাত দেওয়া যাবেনা। কেউ  চুলের জটা কাটলে তার বিরাট ক্ষতি হবে।

এমন অনেক জটাধারী ব্যক্তিদের মাজে ভ্রান্ত ধারণা ও কুসংস্কার বিরাজ করছে। অথচ চুলের জট যদি গভীর হয় সে ক্ষেত্রে চুল কেটে ফেল্লেই ভাল। কেটে ফেললে হয়ত জ্বর বা এই জাতিয় কোন অসুখ হতে পারে। কয়েকদিন ভাল টিটমেন্ট হলেই সুস্থ হয়ে যাবে। অনেক মাজার বা কোন পীর মুর্শিদ এর জট দেখবেন!! তাদের মাথায় কেরাটিন বেশী। ওই গুলা ইচ্ছা করে তৈরি করে বিজনেস করার জন্যে। এগুলার সাথে কোনো ইসলাম সম্পর্ক নাই। চুল সমন্ধে একটা চমকপ্রদ তথ্য হলো চুল আমাদের শরীরের কোনো অঙ্গ নয়, এটি কেবল শরীরের বাহ্যিক একটি অংশমাত্র। সমগ্র চুলের দৃশ্যমান অংশ হলো কেরাটিন নামক প্রোটিন নির্মিত একধরণের জড়বস্তু; তাই আমরা চুল কাটলেও কোনো ব্যাথা পাই না। তবে চুল ধরে টানলে ঠিকই ব্যাথা পাই; কারণ চুলের গোড়ায় থাকা ফলিকল জীবন্ত এবং স্নায়ুতন্তের সাথে সংযুক্ত।

একটি চুলের ব্যাহ্যিক আকার-আকৃতি ও সৌন্দর্য নির্ভর করে এই ফলিকলের উপরে। আর ফলিকলের অবস্থা ও গুনাগুন বৃহৎ অংশে নির্ভর করে আপনার জেনেটিক্সের উপর আর কিছু অংশ নির্ভর করে আপনার খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যবিধির উপরে। তাই জেনেটিক্সের দরুন যদি কারো চুলের স্বাস্থ্য দুর্বল হয়ে থাকে যেমন টাক হয়ে যাওয়া, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, অকালে ধূসর হয়ে যাওয়া, ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমাদের করার কিছু নেই। তবে হরমোন থেরাপি ও হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট এর মাধ্যমে ব্যক্তি বিশেষে উপকার মিলতে পারে।

জট লেগে যাওয়া চুলের জন্য কলা খুব উপকারী। কলায় প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, পটাসিয়াম, প্রাকৃতিক তেল ও ভিটামিন থাকে, যা চুলকে নরম ও ঝলমলে করে। পাকা কলা চটকে দুই টেবিল চামচ মধু, দুই টেবিল চামচ সরিষার তেল মিশিয়ে পুরো চুলে ভালো করে লাগান। আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু  করুন। এই প্যাক চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। সপ্তাহে এক দিন নিয়মিত ব্যবহারে চুল হবে নরম, উজ্জ্বল ও জটমুক্ত। ডিপ কন্ডিশনিং ট্রিটমেন্ট চুলকে জটমুক্ত রাখতে সাহায্য করবে। এ জন্য একটি ডিমের কুসুমের সঙ্গে এক টেবিল চামচ মধু, দুই টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, এক চা চামচ আমন্ড অয়েল, এক চা চামচ গ্লিসারিন ও একটি ভিটামিন ই-ক্যাপ ভালো করে মিশিয়ে নিন। সবগুলো উপাদান মিশে গেলে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত লাগিয়ে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। প্রথমে স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন। সপ্তাহে এক দিন ডিপ কন্ডিশনিং চুলের রুক্ষতা দূরে রাখবে। তাই এ সমস্যা দূর করতে প্রতিদিন লেবুজাতীয় ফল, পেয়ারা, কামরাঙ্গা, কমলালেবু, জাম্বুরা বা যেকোনো টক ফল খান। এ ছাড়া প্রতিদিনের ডায়েটে শস্যদানা, দুধ, ডিম, কলা, বাদাম, কলিজা এবং ডাল প্রভৃতি শস্যজাতীয়।

কতিপয় ব্যক্তিরা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে চুলে জটা নিয়ে ভ্রান্ত ও অমূলক বিশ্বাস জনমতে সৃষ্টি করে। তবে চুলের সঠিক পরিচর্যা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় চুলে জট মুক্ত রাখতে পারে এটা বিজ্ঞান বাস্তব সম্মত নির্দেশনা দিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর