• শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
নোটিশ :
* ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে বীরযোদ্ধা অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা * বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী  আবশ্যক। আগ্রহীদের নিম্নে ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য জানানো যাচ্ছে।

ঘরে ঘরে সর্দি জ্বর, উপসর্গ নিয়ে বাড়ছে মৃত্যু

বীরযোদ্ধা / ৬৯
প্রকাশিত : ৪:২৪ পিএম, (শুক্রবার) ৯ জুলাই ২০২১

খালিদ হাসান :

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার একতারপুর গ্রামের ছনু বিশ্বাস করোনা উপসর্গ মারা যান গত ২৮ জুন। পাঁচদিন পর ৩ জুলাই একই উপসর্গ নিয়ে মারা যান তার ভাইয়ের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম এবং মেয়ে রাবেয়া খাতুন। ঘটনার ৪ জুলাই মারা যান ছনুর আরেক ভাই আব্দার হোসেন। ৬ দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের চারজন একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেও তারা চিকিৎসকের দ্বারস্থ কিংবা করোনা পরীক্ষা করায়নি। ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। ফতেপুর ইউনিয়নে করোনা উপসর্গ নিয়ে একই ভাবে ১০/১২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের কোনো পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

ভারতের সীমান্তবর্তী মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরজুল ইসলাম সিরাজ এসব তথ্য জানিয়ে বললেন, মারা যাওয়া ওই চারজনেরই সর্দি-জ্বরের মতো উপসর্গ ছিল। চেয়ারম্যানের ভাষ্যমতে, মহেশপুরের গ্রামগুলোতে ঘরে ঘরে মানুষ জ্বরে ভুগছেন। বাড়িতে বসেই সাধারণ জ্বরের চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা। শুধু শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা হলে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম জানান, তাদের এলাকার অনেক মানুষই গত দুই মাসে ভারত থেকে ফিরেছেন। তাদের অনেকের পরীক্ষায় কোভিড ধরাও পড়ে। এরপর থেকে গ্রামগুলোতে জ্বরের প্রকোপ শুরু হয়। মহেশপুরের মতো গোটা জেলায় ঘরে-ঘরে দেখা দিয়েছে জ্বর-সর্দি। পরিবারে একজন জ্বরে আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যরাও হচ্ছেন দ্রতই। সদ্য জ্বর থেকে সেরে ওঠা এমন একজন ব্যাপারীপাড়ার সাহারুল বারী।

তিনি জানিয়েছেন, এবারের জ্বর অন্যবারের তুলনায় ভিন্ন। অন্য সময়ে জ্বরের সঙ্গে সর্দি-কাশি থাকলেও শরীরে ব্যথা ছিল না। এবার অনেকেই শরীরে ব্যথা অনুভব করছেন। একবার শুরু হলে সপ্তাহ পেরিয়েও ছাড়ছে না জ্বর। মুখে স্বাদ ও নাকে গন্ধ থাকছে না। জ্বর চলে গেলেও শরীর দুর্বল হয়ে থাকছে। এদিকে এই জ্বরে পরিবারের শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকের তাপমাত্রা কমলেও শ্বাসে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তবে তাদের খুব কমই করোনার পরীক্ষা করাচ্ছেন। ফলে জেলায় কতজন করোনা রোগী আর কতজন মৌসুমি জ্বরে আক্রান্ত তা নিশ্চিত বলতে পারছে না ঝিনাইদহ স্বাস্থ্য বিভাগ।

তবে যে জ্বরই হোক না কেন, শুরুতে রোগীকে আইসোলেশনে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ঝিনাইদহের করোনা ইউনিটের চিকিৎসক ডাঃ জাকির হোসেন।

তিনি জানান, করোনা সংক্রামনের যে দাবানল শুরু হয়েছে তা থেকে রক্ষার একমাত্র উপায় মাস্ক পরা ও ঘরে থাকা। এদিকে জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১৬২ জন। সিভিল সার্জন ডা: সেলিনা বেগম জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৯ জন ও শৈলকুপা উপজেলায় মারা গেছে একজন।

এ ছাড়াও সদর হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৩ জন।

এদিকে জেলায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১৬২ জন। ৪৪২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এ ফলাফল এসেছে। আক্রান্তের হার ৩৬ দশমিক ৬৫ ভাগ। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ৫ হাজার ৪’শ ৮২ জনে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর