• সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
নোটিশ :
* ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে বীরযোদ্ধা অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা * বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী  আবশ্যক। আগ্রহীদের নিম্নে ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য জানানো যাচ্ছে।

গরু পালনে স্বাবলম্বী নাসির উদ্দিন চুন্নু

বীরযোদ্ধা / ৬২
প্রকাশিত : ১২:০৩ পিএম, (রবিবার) ১৬ মে ২০২১

আশরাফ আহমেদ :

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামগুলোতে দেশি ও বিদেশি জাতের গরু মোটাতাজাকরণ কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন স্থানীয় গো-খামারিরা। প্রতিবছর ষাড় গরু বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মোটাতাজা করে আর্থিক স্বচ্ছলতা লাভ করে দৃষ্টান্তমূলক নজির স্থাপন করেছে এখানকার গ্রামের মানুষ।

গরু মোটাতাজা করে দারিদ্র্য জয় করে স্বাবলম্বী হয়েছে অসংখ্য বেকার যুবক ও গ্রামবাসী। তাদের গো-খামারে মোটাতাজা করা গরু বিক্রি হয় দেশের বিভিন্ন কোরবানির হাটে।

দেশি জাতের গরু পালন করে অল্প সময়ের মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছেন হোসেনপুর উপজেলার ঢেকিয়া গ্রামের নাসির উদ্দিন চুন্নু। আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি পূরণ করছেন আমিষের চাহিদা।

কোনো প্রকার ইঞ্জেকশন, রাসায়নিক সার ছাড়া সম্পূর্ণ দেশি খাবার দিয়ে গরু মোটাতাজা করে দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি। প্রতি ব্যাচের জন্য সময় নেন ৩ থেকে ৪ মাস। গরু পালনের পাশাপাশি নেপিয়ার ঘাসের চাষ, মৎস্য চাষ ও কবুতর পালনে এলাকায় রয়েছে নাসির উদ্দিন চুন্নুর বেশ সুনাম এবং পরিচিতি।

গরুর খামারে গিয়ে নাসির উদ্দিন চুন্নুর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৯ সালে নিজস্ব অর্থায়নে তিনি গরুর খামারের যাত্রা শুরু করেন। প্রথমে তিন লাখ টাকা খরচ করে মেঝে পাকা করে ৩০ হাত লম্বা একটি টিনশেড ঘর দেন। ১০ টি দেশি গরু দিয়ে শুরু করেন প্রথম যাত্রা। তারপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। গরুর খাদ্যের জন্য দুই একর জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করেছেন। নিজ খামারে গরুর খাদ্যের যোগান দিয়েও উদ্বৃত্ত নেপিয়ার ঘাস গুলো  বিক্রি করে ও আর্থিকভাবে অনেক লাভবান হচ্ছেন তিনি।

নাসির উদ্দিন চুন্নু বীরযোদ্ধাকে বলেন, ‘আমি এক বছরে তিন ব্যাচ গরু পালন করি। প্রতি ব্যাচের জন্য সময় লাগে ৩ থেকে ৪ মাস। গড়ে প্রতি চালানে লাভ হয় ২ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা। চলতি ব্যাচে আমার খামারে ছোট বড় ২০ টি দেশি জাতের গরু রয়েছে। আমার স্ত্রী এবং বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে খামারে কাজ করছি। গরুর খাবার এবং পরিচর্যা করার জন্য বাড়তি লোকের প্রয়োজন হচ্ছে না। তিন মাস আগে এই গরুগুলো দেশের বিভিন্ন বাজার থেকে ক্রয় করেছি। এক একটি গরু ভিন্ন ভিন্ন দামে কিনেছি। তাতে এই ২০টি গরুর জন্য মোট খরচ হয়েছে ১৫ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘গরু পালনে তেমন কোন অসুবিধা নেই। তবে গরুর সুস্থতার জন্য গরুর শরীর আর ঘর সবসময় পরিস্কার রাখতে হয়। আর আমি কোনো রাসায়নিক সার বা ইঞ্জেকশন দিয়ে গরু মোটাতাজা করি না। স্থানীয় পশু ডাক্তারের সহযোগিতা এবং পরামর্শ নিয়ে কাজ করি। সময়মত কৃমির ওষুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি সম্পূর্ণ দেশি খাবার যেমন- চালের ভূষি, কাঁচা সবুজ ঘাস, খড়, খৈল ইত্যাদি দিয়ে গরুকে মোটাতাজা করি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একটা লাভ পেয়ে যাই। বিভিন্ন এলাকার অনেকেই এখন আমার খামার দেখতে আসছে। আমার খামার দেখে অনেক বেকার যুবক চাকরির আশা ছেড়ে গরুর খামার করতে আগ্রহী হচ্ছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমরা সবসময় গরু খামারিদের বিজ্ঞান সম্মত পরামর্শ দিয়ে থাকি। নাসির উদ্দিন চুন্নুর ‘মৃধা এগ্রো ফার্ম’কে অনুসরণ করে আনেকেই দেশি গরু পালন করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর