• সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
নোটিশ :
* ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে বীরযোদ্ধা অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা * বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী  আবশ্যক। আগ্রহীদের নিম্নে ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য জানানো যাচ্ছে।

করোনায় বাড়ছে ধন বৈষম্য

বীরযোদ্ধা / ১০৬
প্রকাশিত : ৪:৫৯ পিএম, (সোমবার) ২৪ মে ২০২১

আশরাফ আহমেদ :

করোনা নামক মহামারীর কারণে বিশ্ব অর্থনীতি আজ ব্যাপক ভাবে বিপর্যস্ত। প্রতিটি দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি ভেঙে পড়ার উপক্রম। বিশ্বব্যাপী দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দিনে দিনে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে যারা দারিদ্র্য সীমা অতিক্রম করে কিছুটা বিত্তের মুখ দেখতে শুরু করেছিলেন তারাও করোনার কারণে নতুন করে আবার দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছেন। করোনার সংক্রমণ দীর্ঘ মেয়াদী হলে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।

একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী অন্তত ১০ কোটি মানুষ নিশ্চিতভাবেই দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। করোনা সংক্রমণের কারণে বিশ্বব্যাপী দরিদ্র ও অসহায় মানুষগুলো সবচেয়ে বেশি কর্মহীন হয়ে পড়ছে। আর কর্মহীন বেকার হয়ে পড়ার অর্থই হচ্ছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া। ধারণা করা হয়েছিল, করোনার প্রভাব বিত্তবান ও বিত্তহীন উভয় শ্রেণীর মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, করোনা সংক্রমনের কারণে অতি দরিদ্র মানুষ যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সর্বাধিক বিত্তবান মানুষেরা প্রবাহিত হয়নি। বরং করোনার সুযোগে বিত্তবান মানুষ তাদের বিত্তের পাহাড় স্ফীত করতে সক্ষম হয়েছেন।

মার্কিন ম্যাগাজিন ফোর্বস সম্প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে, করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা বিপন্ন হলেও সবচেয়ে ধনী মানুষের আর্থিক অবস্থার ওপর তেমন কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং করোনাকালে বিশ্বে শীর্ষ ধনীদের সম্পদের পরিমাণ আরও বেড়েছে। শুধু সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে তাই নয় ধনী লোকের সংখ্যাও বেড়েছে। অর্থাৎ করোনা তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। বিশ্বব্যাপী বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২হাজার ৭৫৫ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। তাদের মিলিত সম্পদের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। করোনার পূর্বে ২০২০ সালে বিশ্বে বিলিনিয়ার ছিলেন ২ হাজার ৯৫জন। তাদের সম্পদের পরিমাণ ছিল ৮ ট্রিলিয়ন বা ৮ লাখ মার্কিন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে বিলিনিয়ার বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৯৩ জন। প্রতি ১৭ ঘন্টায় বিশ্বে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা একজন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ফোর্বসের প্রতিবেদন মোতাবেক, বিশ্বে অতি বিত্তবান মানুষের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি করোনা মত মহামারীর সময় ও তাদের সম্পদ আহরণে কোন বিঘ্ন সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু যারা সমাজে বিত্তহীন দরিদ্র তাদের অবস্থা দিনে দিনে আরো খারাপের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকেই পেশাগত কর্ম হারা হয়ে নতুন করে তাই দরিদ্র শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আমরা যদি বিশ্লেষণ করি তাহলে একই চিত্র লক্ষ্য করতে পারি।

বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ২০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সাধারণ মানুষ খুবই অসহায় অবস্থার মধ্যে রয়েছে। শোনা যায়, জীবন আগে নাকি জীবিকা? দেশের বেশিরভাগ বিশেষ করে যারা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং স্বল্প আয়ের মানুষ তারা খুবই বিপাকে পড়েছেন। কিন্তু এত সংকটাপন্ন অবস্থার মধ্যেই একশ্রেণির মানুষ নানা অবৈধ পন্থায় অবলম্বন করে বিত্তের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায় ,দেশে বর্তমানে ব্যাংক হিসাবধারী কোটিপতি ৮৭ হাজার ৫০০ জন। সবচেয়ে অবাক হওয়ার ব্যাপার হচ্ছে, করোনা কালীন অবস্থায় দেশে কোটিপতির ব্যাংক হিসাব দাঁড়িয়ে বেড়েছে চার হাজার ৮৬৫ জন। কোটিপতি ব্যাংক হিসাবধারীদের ব্যাংক হিসাবে অন্তত পাঁচ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা রয়েছে। এটা বৈধ হিসাব। এর বাইরে শত শত কোটিপতি আছেন যারা টাকা দেশের বাইরে পাচার করছেন অথবা অন্যকোন ভাবে লুকিয়ে রেখেছেন। করোনা কালীন অবস্থায় বেশি বিত্তবান ও বিত্তহীনের ব্যবধান দ্রুত বাড়ছে। এক শ্রেণির মানুষ আছেন যারা করোনা সুযোগ নিয়ে  নিজেদের আর্থিক সামর্থ্য বৃদ্ধিই দরিদ্র মানুষের জন্য দেওয়া দান’ সামগ্রী চুরি করে বা অন্য কোন উপায়ে তারা বৃত্তের পাহাড় গড়ে তুলছেন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে একথা ঠিক। তবে এর সুফল মানুষ যাতে ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভোগ করতে পারে তার ব্যবস্থা করাই এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি। অন্যথায় উন্নয়নের সুফল ব্যর্থ হতে বাধ্য।

ইতোমধ্যে করোনা সংক্রমণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকার দেশব্যাপী লকডাউন কর্মসূচি দিয়েছেন। কিন্তু মানুষ তাদের জীবিকা হারানোর ভয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজ নিজ কর্মে নিযুক্ত থাকতে চান। আবার সরকার কঠোর অবস্থান থেকে লকডাউন এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। কিন্তু তার বাস্তবায়ন জরুরি। এ ব্যাপারে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। তবে গৃহে অবস্থান করা অবস্থায় তাদের পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ করা জরুরি।

সরকার করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন সেক্টরের জন্য ঋণ ও আর্থিক প্রণোদনা ব্যবস্থা করেছেন। এটা অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এই উদ্যোগে  কারা লাভবান হয়েছেন? শিল্প খাতে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে তার বড় অংশ। শিল্পোদ্যোক্তারা ব্যবহার করে লাভবান হয়েছেন। কিন্তু ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে নিয়োজিত উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা এই প্রণোদনার ঋণ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেনি। এদিকে ব্যাংক-ব্যবস্থা সবসময়ই ‘তেলা মাথায় তেল” দিতে বেশী পছন্দ করে। যার দরুন বৃহৎ শিল্প মালিকগণ ব্যাংক থেকে অতি সহজে  ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের উদ্যোক্তারা তারা এত সহজে ঋণ পান না। এদেশে যারা অতি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মালিক তাদের আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তারা তাদের কর্মে আত্মনিয়োগ করতে পারলে দেশে কর্মসংস্থানের চিত্র পাল্টে যাবে। প্রয়োজনে বিদ্যমান আইন পরিবর্তন করা হলেও তাদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করলে ধনী ও গরিবের বৈষম্য কিছুটা হলেও লাঘব হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গুলো যাতে বৃহৎ শিল্পের সমন্বয় হিসেবে কাজ করতে পারে তাহলে শিশু শিল্পগুলো এদেশে বেঁচে থাকবে। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীভূত হয়ে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর