• সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
নোটিশ :
* ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে বীরযোদ্ধা অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা * বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী  আবশ্যক। আগ্রহীদের নিম্নে ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য জানানো যাচ্ছে।

কমে যাচ্ছে মাটির চূলার ব্যবহার

বীরযোদ্ধা / ৪০
প্রকাশিত : ৫:৪৭ পিএম, (বৃহস্পতিবার) ২২ এপ্রিল ২০২১

সোহাগ রহমান :

কালের বিবর্তে কমে যাচ্ছে গৃহিনীদের মাটির চূলার ব্যবহার। তবে গ্রামাঞ্চলে এখনও অনেক বাড়িঘরে মাটির চূলার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। যুগ যুগ ধরে গৃহিনীরা রান্নাবান্নার জন্য মাটির চূলার ব্যবহার করে আসছেন। এক সময় গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে রান্নার কাজে একমাত্র ভরসা ছিল মাটির চূলা। আবার কেউ কেউ ইট, সিমেন্ট, চিনামাটি কিংবা ড্রাম টিন দিয়ে চূলা তৈরি করে রান্নার কাজ করতেন। আবার কেউ কেরোসিন জ্বালিয়ে স্টোপেও রান্নাবান্না করতেন। সভ্যতার এ যুগে এসে মানুষকে মাটির চূলার ব্যবহার করতে তেমন একটা দেখা যায় না বললেই চলে।

জানা যায়, বিদ্যুতের ব্যবহারের সাথে সাথে রাজধানী, বিভাগ ও জেলা শহরগুলোতে গৃহিনীরা বৈদ্যুতিক হিটারের মাধ্যমে রান্নাবান্না করতেন। এতেকরে বিদ্যুতের প্রচুর ঘাটতি দেখা দিতো। এক পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিদ্যুতের অপচয় রোধে হিটার চূলাগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেও কেউ কেউ লুকিয়ে রান্নার কাজ করতেন। পরবর্তীতে গ্যাসের উৎপত্তি হওয়ার ফলে বেড়ে যায় গ্যাসের ব্যবহার। বিভিন্ন কলকারখানাসহ রান্নাবান্নার কাজে গ্যাসের ব্যবহার দিনকে দিন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে গ্যাসের সংযোগ বন্ধ থাকায় বাসাবাড়িতে বেড়েছে সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবহার। হিটার ও গ্যাসের চূলায় রান্নাবান্না কাজে বেশির ভাগ গৃহিনীদেরকে লক্ষ্য করা যায়।

তবে বছরের চৈত্র ও বৈশাখ মাসের এ সময়টাতে গৃহিনীরা নতুন ধান সেদ্ধ করার জন্য নানা ধরনের চূলা তৈরি করে থাকেন। চূলা তৈরিতেও বেশ পাকা হাতের প্রয়োজন। গ্রামাঞ্চলে এমন কিছু গৃহিনীরা আছেন যারা চূলা তৈরিতে ব্যাপক পারদর্শী বা ওস্তাদ। এ সময়টাতে ওইসব চূলা তৈরির কারিগররা ব্যাপক ব্যস্ত সময় পার করেন। প্রতিবেশি গৃহিনীরা চূলা তৈরি করে দেওয়ার জন্য ধরনা দিতো ওই কারিগরের কাছে।

গৃহিনী মরিয়ম আক্তার জানান, চৈত্রের শেষ বৈশাখের শুরুতেই তাদের বাড়িতে ধান কাটা পড়তো। এ সময়টাতে আবার কালবৈশাখী ব্যাপক তান্ডব চালাতো। তাই নতুন ধান ঘরে তুলতে গৃহস্থ ও গৃহিনীরা মরিয়া হয়ে উঠতেন। তাছাড়া চৈত্রের শেষের দিকে চালের ব্যাপক সংকট দেখা দিতো। কেউ কেউ ধান কেটে সেটি সেদ্ধ করে নতুন চালের ভাত খেতো। তাদের বাড়ির কাছেই নাছিরের মা বলে একজন বয়স্ক মহিলা থাকতেন। তিনি বিভিন্ন ধরনের চূলা তৈরিতে বেশ পারদর্শী ছিলেন। তাকে এক থেকে দেড় মণ ধান দেওয়ার কথা বলে বাড়ির উঠানে কিংবা চরায় (ধান শুকানোর মাঠে) তিন মুখওয়ালা কিংবা চার মুখওয়ালা চূলা তৈরি করাতেন। বর্তমানে প্রায় বাড়িতেই গ্যাসের চূলা হওয়ায় সেই সব মাটির চূলা বানানোর আর প্রয়োজন পড়ে না। এটি এখন বিলুপ্তির পথেই বলতে পারেন। তাছাড়া লাকড়ি জ্বালিয়ে কেউ রান্না করতে চায় না।

গেরস্থ আব্দুর রশিদ মন্ডল জানান, ধান সেদ্ধ করার জন্য তিন চার মুখওয়ালা চূলা তৈরি করে তাতে লাকড়ি কিংবা ধানের খড় জ্বালিয়ে সেদ্ধ করা হতো। তাছাড়া সঠিক ভাবে চূলা তৈরি করতে পারলে তাতে খুব তাড়াতাড়ি ধান সেদ্ধ করা যেত। বর্তমানে সেসব চূলা তৈরির কারিগর না থাকায় ইটের সাথে সিমেন্ট কিংবা চিনামাটি মিশিয়ে তিন সুড়ঙ্গের অস্থায়ী চূলা তৈরি করে ধান সেদ্ধ করছে গৃহিনীরা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিপুন হাতের ছোঁয়ায় এক সময় গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন বাড়িঘরে দেখা মিলতো পরিবেশ বান্ধব, নিরাপদ ও ঝুঁকি মুক্ত নানা ধরনের চূলা। বর্তমানে দক্ষ কারিগরের অভাবে দেখা মিলছেনা বাহারী চূলা তৈরি আর ওইসব চূলার ব্যবহার। ভবিষ্যত প্রজন্ম ওইসব চূলা তৈরির দৃশ্য দেখা হতে বঞ্চিত হবে। এটি তখন বইয়ের পাতায় দেখে আফসোস করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর