• মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০২:২১ অপরাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
নোটিশ :
* ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে বীরযোদ্ধা অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা * বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী  আবশ্যক। আগ্রহীদের নিম্নে ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য জানানো যাচ্ছে।

ঈদের তিনদিনে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার থেকে আয় ১২লাখ টাকা

বীরযোদ্ধা / ১৯
প্রকাশিত : ১১:৪৪ এএম, (শুক্রবার) ৬ মে ২০২২

আহসান হাবীব শিপলু : 
ঈদের তিন দিনে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বিশ্ব ঐতিহ্য দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার (সোমপুর বিহার) থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ১২লক্ষ টাকা। আর প্রায় লক্ষাধিক পর্যটক ভ্রমণ করেছে এই পাহাড়পুরে।
মহামারি করোনা ভাইরাসের সংকট কেটে প্রায় দীর্ঘ দুই বছর পর আবারো নতুন করে পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গন। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকসহ দেশের বিশিষ্টজনরা এই ঈদে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ভ্রমণ করেছেন। এছাড়া ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে চালু হওয়া ট্যুরিস্ট বাস ভ্রমণ বিলাস নওগাঁর ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের মাঝে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে পুরনো প্রত্নতত্ত্বস্থল এই পাহাড়পুর। এর আদি নাম সোমপুর বিহার। নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নে অবস্থিত এটি। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। এটি মূলত পাল রাজ্ত্বের রাজধানী ও সেই সময়ের এটি বিশ্ববিদ্যালয় ছিলো। এখানে সে সময় বৌদ্ধ ভিক্ষুরা পড়ালেখা করতো। নওগাঁ শহর থেকে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের দূরত্ব প্রায় ৩৪কিলোমিটার, জয়পুরহাট জেলা থেকে ১২ কিলোমিটার। এখানে সারা বছর দেশ-বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে। তবে দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ঘরে করোনার কারনে বন্দি থাকায় এই ঈদে খোলা থাকায় প্রায় লক্ষাধিক দর্শনাথীরা পাহাড়পুরে এসেছেন। বিগত সময়ের তুলনায় এই ঈদে দর্শানার্থীদের আগমন রের্কড পরিমান। আগের চেয়ে অনেক আধুনিকায়ন হওয়ায় পাহাড়পুরের পরিবেশ নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন দর্শনার্থীরা। আগামী শনিবার সরকারী ছুটির দিন পর্যন্ত দর্শনার্থীদের আগমন বেশি হবে বলে আশা করছেন বিহার কর্তৃপক্ষ।
বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, সত্যিই পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ও তার পরিবেশ খুবই সুন্দর। তবে এখানে মোবাইল নেটওয়ার্কের খুবই সমস্যা। কিন্তু আজকের দিনে এমন ঐতিহাসিক স্থানে এমন সমস্যা সত্যিই খুবই দুঃখজনক এই সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। আমি এখানে এই প্রথম আসলাম। হাজার বছর আগের কীর্ত্তি দর্শন করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। আর এখানে এতো পর্যটকের সমাগম এর আগে আমি কোথাও দেখিনি।
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের কাস্টোডিয়ান মোঃ ফজলুল করিম আরজু বলেন, পাহাড়পুরের ইতিহাসে এতো রের্কড পরিমাণ দর্শক কখনোই আসেনি। আমরা সীমিত লোকজন নিয়ে আগত দর্শনার্থীদের মানসম্মত সেবা প্রদানের চেস্টা করে আসছি। এতো দর্শনাথী সামাল দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেকেই আবার বিহারের প্রাচীর টপকে ভিতরে প্রবেশ করছে। আমি আশাবাদি আগামী শনিবার পর্যন্ত দর্শকদের উপস্থিতি থাকবে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোঃ আতাউর রহমান বলেন, দেশের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোকে আরো আধুনিকায়ন করতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অতিদ্রুত পাহাড়পুরের জনবল সংকটসহ নানা সমস্যা সমাধান করে এটিকে পর্যটকদের কাছে আরো আর্কষনীয় করতে যা যা করা প্রয়োজন তা করা হবে। দেশের সকল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো আরো আধুনিকায়ন করতে সরকারের অচিরেই সেই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
 টুরিস্ট পুলিশ নওগাঁ জোনের ইনচার্জ মোঃ সাজেদুর রহমান বলেন, আমি আমাদের টুরিস্ট পুলিশ সদস্যদের নিয়ে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে আগত দর্শনার্থীদের সাবর্বক্ষনিক নিরাপত্তা কাজে দিয়োজিত থেকে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর