• সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
নোটিশ :
* ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে বীরযোদ্ধা অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই প্রাণ ঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা * বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলাতে অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী  আবশ্যক। আগ্রহীদের নিম্নে ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য জানানো যাচ্ছে।

আসছে দিতির শেষ সিনেমা ‘এ দেশ তোমার আমার’

বীরযোদ্ধা / ৬০
প্রকাশিত : ১:৪৯ পিএম, (রবিবার) ২১ মার্চ ২০২১

বিনোদন প্রতিবেদক : 

২০১৬ সালের ২০শে মার্চ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান জনপ্রিয় অভিনেত্রী পারভীন সুলতানা দিতি। নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে যে কজন অভিনেত্রী সাড়া জাগিয়েছিলেন, তাদের মাঝে চিত্রনায়িকা পারভিন সুলতানা দিতি ছিলেন অন্যতম। একের পর এক ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে এ অভিনেত্রী আস্থা অর্জন করে নিয়েছিলেন নির্মাতা ও কলাকুশলিদের। মেধাদীপ্ত প্রাণবন্ত অভিনয়ের মধ্য দিয়ে জয় করেছেন অগণিত দর্শক-ভক্তদের। সিনেমাপ্রেমীদের মনের মণিকোঠায় আজও অমলিন এই অভিনেত্রী পৃথিবী থেকে হারিয়ে গিয়েছেন আজ থেকে ঠিক ৫ বছর আগে।

এদিকে মৃত্যুর ৫ বছর পর মুক্তি পেতে যাচ্ছে দিতি অভিনীত ‘এ দেশ তোমার আমার’। আসন্ন দুই ঈদের মধ্যে তার এই ছবিটি মুক্তি পাবে বলে জানিয়েছেন ছবিটির মূল অভিনেতা ও প্রযোজক মনোয়ার হোসেন ডিপজল। ছবিটি পরিচালনা করেছেন এফ আই মানিক।

ডিপজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘দিতি মারা যাওয়ার কয়েক মাস আগে আমরা ছবিটির শুটিং শেষ করেছি। ছবিটি ৩৫ মিলিমিটারে শুট হয়েছিল। ট্রান্সফার করে ডিজিটাল করা হয়েছে। তা ছাড়া আমি মাঝখানে কিছুদিন অসুস্থ থাকায় ছবির কাজ আর শেষ করতে পারিনি। যে কারণে দেরি হয়ে গেছে। তবে আগামী দুই ঈদের মাঝামাঝি এই ছবিটি মুক্তির জন্য চূড়ান্ত করেছি।’

১৯৮৪ সালে নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে দেশীয় চলচ্চিত্রে দিতির আগমন ঘটে পারভিন সুলতানা দিতি। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র উদয়ন চৌধুরী পরিচালিত ‘ডাক দিয়ে যাই’। যদিও ছবিটি শেষ মুক্তি পায়নি। দিতি অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র ছিল আজমল হুদার ‘আমিই ওস্তাদ’। এরপর দিতি প্রায় দুই শতাধিক ছবিতে কাজ করেছেন। একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে নিয়ে যান জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

১৯৬৫ সালের ৩১ মার্চ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দিতির জন্ম। দিতি ১৯৬৫ সালের ৩১ মার্চ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে তার গায়িকা হওয়ার ইচ্ছা ছিল এবং তিনি গানের চর্চাও করতেন। জাতীয় শিশু একাডেমি থেকে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় তিনি জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ঢাকার লালমাটিয়া মহিলা কলেজ থেকে বিএ পাস করেন।

বিটিভিতে গান করার সুবাদে তিনি অভিনেতা আল মনসুরের নজরে আসেন এবং মনসুর তাকে লাইলি মজনু নাটকে অভিনয়ের সুযোগ দেন। এতে দিতির বিপরীতে অভিনয় করেন মানস বন্দ্যোপাধ্যায়। নাটকটি জনপ্রিয়তা লাভ করলেও দিতির পরিবার থেকে তাকে অভিনয় করতে বাধা দেয়া হয়। কিছুদিন বিরতির পর তিনি ফখরুল আরেফীনের প্রযোজনায় ইমিটেশন নাটকে অভিনয় করেন।

৩১ বছরের অভিনয়জীবনে শুধু নিজেকে সিনেমায় ব্যস্ত রাখেননি এই অভিনেত্রী। নাটকেও অভিনয় করেছেন এবং পরিচালনাও করেছেন। রান্না বিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনায়ও দেখা গেছে তাকে। অভিনয়ের বাইরে গান গাইতেও দেখা গেছে তাকে। প্রকাশিত হয়েছে তার একক গানের অ্যালবামও। বিজ্ঞাপন চিত্রে মডেলও হন তিনি। ১৯৮৭ সালে ‘স্বামী-স্ত্রী’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

দিতি অভিনীত উল্লেখ্যযোগ্য চলচ্চিত্র গুলোর মধ্যে রয়েছে ভাই বন্ধু, উছিলা, লেডি ইন্সপেক্টর, খুনের বদলা, আজকের হাঙ্গামা, স্নেহের প্রতিদান, শেষ উপহার, চরম আঘাত, কালিয়া, স্বামী-স্ত্রী, মেঘের কোলে রোদ, জোনাকির আলো ও মাটির ঠিকানা।

দিতি অভিনেতা সোহেল চৌধুরীকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। ১৯৮৭ সালে জন্ম হয় দিতি-সোহেল দম্পতির প্রথম সন্তান লামিয়া চৌধুরীর। ১৯৮৯ সালে এ দম্পতির ছেলে দীপ্ত চৌধুরীর জন্ম হয়। নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে দিতি ও সোহেল চৌধুরীর বিচ্ছেদ ঘটে। ১৯৯৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর বনানীর ট্রাম্পস ক্লাবের সামনে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন সোহেল চৌধুরী। সোহেল চৌধুরী মারা যাওয়ার পর চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনকে বিয়ে করেন। সে সংসার টেকেনি। কাঞ্চনের সাথেও তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর